জানা গেল করোনার ট্যাবলেটের দাম

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য মুখে খাওয়ার ট্যাবলেট মলনুপিরাভির দেশে বাজারজাতের অনুমোদন দিয়েছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। দেশের শীর্ষস্থানীয় ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো ফার্মা এ ওষুধ বাজারজাত করবে। যার জেনেরিক সংস্করণের নাম হবে ’এমোরিভির’।
মঙ্গলবার (৯ নভেম্বর) বেক্সিমকো ফার্মার চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) রাব্বুর রেজা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।রাব্বুর রেজা বলেছেন, প্রতিটি ট্যাবলেটের বাজার মূল্য ৭০ টাকা। চিকিৎসকের পরামর্শে ১৮ বছরের বেশি বয়সী করোনা আক্রান্ত রোগীকে সংক্রমণ প্রতিরোধে ৪০টি ট্যাবলেট খেতে হবে। এটির বাজার মূল্য হবে ২ হাজার ৮০০ টাকা।সোমবার (৮ নভেম্বর) ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর দেশে মলনুপিরাভির অ্যান্টিভাইরাল ট্যাবলেটের জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে।
রাজধানীর ১৫০টি ফার্মেসিতে সোমবার (৮ নভেম্বর) এ ওষুধ পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগে মঙ্গলবার পাঠানো হবে উল্লেখ্য করে রাব্বুর রেজা বলেছেন, করোনা আক্রান্তের পরিসংখ্যানের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন স্থানে এ ওষুধ পাঠানো হবে। যে সকল এলাকার আক্রান্তের সংখ্যা বেশি, সেই সব এলাকায় এ ওষুধ পাঠানো হবে।মঙ্গলবার (৯ নভেম্বর) সকালে বেক্সিমকো ফার্মার পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিষ্ঠানটির বস্থাপনা পরিচালক নাজমুল হাসান বলেছেন, মহামারির শুরুতে আমাদের প্রথম জেনেরিক রেমডিসিভির উৎপাদনের পর এবার করোনার চিকিৎসায় বিশ্বের প্রথম ওরাল অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ মলনুপিরাভিরের জেনেরিক সংস্করণ চালু করা হয়েছে। করোনা সংক্রমণে আক্রান্ত রোগীদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যের চিকিৎসা সহজলভ্য করতে বেক্সিমকো ফার্মার দ্রুত সাড়া দেওয়ার সামর্থ্যের আরেকটি উদাহরণ এটি।
এটি প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি বড় অর্জন বলে জানিয়েছেন তিনি।
মলনুপিরাভির মানবদেহের প্রবেশকারী করোনাভাইরাসের জেনেটিক কোডে সমস্যা সৃষ্টির মাধ্যমে ভাইরাসটির বংশবৃদ্ধি প্রায় স্থবির করে দেয়। যার ফলে করোনারোগীর গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এবং এ রোগে মারা যাওয়ার সম্ভাবনা হ্রাস পাবে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ কোম্পানি মার্ক ও রিজব্যাক বায়োথেরাপিউটিক করোনা নিরাময়ে যৌথভাবে মলনুপিরাভির তৈরি করেছে। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানিসহ ১৭টি দেশে ওষুধটির ওপর পরীক্ষা হয়েছে। ৪ নভেম্বর যুক্তরাজ্যের ওষুধ নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড কিংডম মেডিসিনস অ্যান্ড হেলথকেয়ার প্রোডাক্টস রেগুলেটরি অথোরিটি ওষুধটি অনুমোদন দিয়েছে।
তবে ইউরোপিয়ান মেডিসিন এজেন্সি ও যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) ওষুধটি অনুমোদন দেওয়ার বিষয়টি এখনো পর্যালোচনা করছে।
