তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রি: বোয়িংসহ ১০ মার্কিন প্রতিষ্ঠানের ওপর চীনের নিষেধাজ্ঞা

তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রির অভিযোগে বোয়িংসহ ১০টি মার্কিন প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট ১০ ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে চীন। শুক্রবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয়।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে বোয়িংয়ের সেন্ট লুইস শাখা, নর্থরপ গ্রুমান সিস্টেমস করপোরেশন এবং এল৩হ্যারিস মেরিটাইম সার্ভিসেস। পাশাপাশি তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান আন্ডুরিল ইন্ডাস্ট্রিজের প্রতিষ্ঠাতা ও নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত কোম্পানিগুলোর ৯ জন শীর্ষ কর্মকর্তা রয়েছেন।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, নিষেধাজ্ঞার অংশ হিসেবে এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের চীনে থাকা সব ধরনের সম্পদ জব্দ করা হবে। একই সঙ্গে চীনের কোনো সংস্থা বা নাগরিক তাদের সঙ্গে ব্যবসায়িক লেনদেন করতে পারবে না। তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের চীনে প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের কাছে ১১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির ঘোষণা দেয়, যা এখন পর্যন্ত তাইওয়ানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় অস্ত্র প্যাকেজ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এ ঘোষণার পরপরই চীন এই পাল্টা পদক্ষেপ নিল।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, তাইওয়ান ইস্যু চীনের মূল স্বার্থের কেন্দ্রবিন্দু এবং চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের একটি ‘রেড লাইন’, যা কোনোভাবেই অতিক্রম করা যাবে না। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তাইওয়ান বিষয়ে যেকোনো উসকানিমূলক পদক্ষেপের জবাবে চীন কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত।
এ সময় যুক্তরাষ্ট্রকে তাইওয়ানকে অস্ত্রসজ্জিত করার ‘বিপজ্জনক’ প্রচেষ্টা বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়।
উল্লেখ্য, চীন গণতান্ত্রিকভাবে শাসিত তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে, যদিও তাইপেই এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, তাইওয়ানকে আত্মরক্ষার সক্ষমতা অর্জনে সহায়তা দেওয়া ওয়াশিংটনের একটি আইনগত বাধ্যবাধকতা—যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সূএ : প্রথম আলো।



