আন্তর্জাতিক খবর
প্রধান খবর

গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি আরও জোরালো ট্রাম্পের, ন্যাটো ভাঙার মূল্য দিতেও প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি আরও জোরদার করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এই ইস্যুতে আর পিছু হটার সুযোগ নেই এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য গ্রিনল্যান্ড অপরিহার্য।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি-র খবরে বলা হয়, এর আগে হোয়াইট হাউজে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়েছিল-গ্রিনল্যান্ড দখলে তিনি কতদূর যেতে প্রস্তুত? উত্তরে তিনি বলেন, “আপনারা তা দেখতে পাবেন।”

দীর্ঘ প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশে ট্রাম্প আরও বলেন, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে সবকিছু শেষ পর্যন্ত ভালোভাবেই মীমাংসা হয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদী।

গ্রিনল্যান্ডের জন্য ন্যাটো জোট ভেঙে যাওয়ার মতো মূল্য দিতে তিনি প্রস্তুত কিনা-বিবিসির এমন প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেন,
‘ন্যাটোর জন্য আমার মতো এত কিছু আর কেউ করেনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘ন্যাটো খুশি থাকলে আমরাও খুশি থাকব। বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্যই গ্রিনল্যান্ড আমাদের প্রয়োজন।’
তবে একই সঙ্গে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন-প্রয়োজনে ন্যাটো আদৌ যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়াবে কি না।

বর্তমানে ন্যাটোর সদস্য দেশ সংখ্যা ৩২টি। জোটটির মূল ভিত্তি অনুচ্ছেদ-পাঁচ, যেখানে বলা হয়েছে-এক বা একাধিক সদস্যের ওপর সশস্ত্র হামলাকে সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

গ্রিনল্যান্ড দখলে সামরিক শক্তি ব্যবহার করবেন কি না-এমন প্রশ্নে ট্রাম্প সরাসরি ‘না’ বলেননি। এনবিসি নিউজের প্রশ্নে তার জবাব ছিল, “নো কমেন্ট।”

এদিকে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম-এ ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সতর্ক করে বলেন, বিশ্ব একটি নিয়মবিহীন ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি নিষ্ঠুরতার পরিবর্তে আইনের শাসনকে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেন, পুরোনো বিশ্ব ব্যবস্থা আর ফিরে আসছে না। বুধবার ট্রাম্পের দাভোসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে এবং সেখানে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে একাধিক বৈঠকের সূচি রয়েছে বলে জানান তিনি।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিবিসি নিউজ নাইটকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গ্রিনল্যান্ডের শিল্প ও প্রাকৃতিক সম্পদ বিষয়ক মন্ত্রী নাজা নাথানিয়েলসন বলেন, ট্রাম্পের দাবিতে গ্রিনল্যান্ডবাসীরা বিস্মিত।
তিনি বলেন, “আমরা আমেরিকান হতে চাই না। আমাদের সংস্কৃতি ও ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার আমাদেরই।”

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন দাভোসে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, ইউরোপ আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তায় সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি ট্রাম্পের প্রস্তাবিত অতিরিক্ত শুল্ক আরোপকে ভুল সিদ্ধান্ত বলে আখ্যায়িত করেন।

ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রস্তাবের বিরোধিতা করলে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ইউরোপের আটটি দেশ থেকে আমদানি করা সব পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।

এর জবাবে ভন ডার লিয়েন বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ডেনমার্কগ্রিনল্যান্ড-এর পাশে পূর্ণ সংহতির সঙ্গে রয়েছে এবং তাদের সার্বভৌমত্ব কোনো দরকষাকষির বিষয় নয়।

ম্যাক্রোঁ নতুন নতুন শুল্ক আরোপকে মৌলিকভাবে অগ্রহণযোগ্য বলে নিন্দা জানান, বিশেষ করে যখন শুল্ককে ভূখণ্ডের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নকে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান, যার মধ্যে ‘ট্রেড বাজুকা’ ব্যবহারের কথাও রয়েছে।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তির অনুমোদন জুলাই মাসে স্থগিত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যকার উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

তথ্যসূত্র: ইত্তেফাক

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button