আন্তর্জাতিক খবর
প্রধান খবর

বিশ্ববাজারে আরও বাড়ল তেলের দাম, ব্যারেলপ্রতি ছাড়াল ৯০ ডলার

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত আরও তীব্র হওয়ায় বিশ্ববাজারে আবারও বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলার ছাড়িয়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় এই মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (২০ জুলাই) এশিয়ার বাজারে লেনদেন শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী টানা নবম রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় বিমান হামলা চালানোর পর বাজারে এ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

মূলত ইরানের হামলায় দুই মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র এই হামলা শুরু করে। এর জবাবে তেহরান অন্তর্বর্তী শান্তি চুক্তির আওতায় দেওয়া প্রতিশ্রুতি স্থগিত করে এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয়।

সোমবার বাংলাদেশ সময় ভোরে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ দশমিক ৭৫ ডলার বা ৩ দশমিক ১২ শতাংশ বেড়ে ৯০ দশমিক ৮৫ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ২ দশমিক ৫৬ ডলার বা ৩ দশমিক ১০ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৫ দশমিক ৫ ডলারে দাঁড়ায়।

বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি সমুদ্রপথে বীমা ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বাজারে অস্থিরতা আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়তে শুরু করে গত ৭ জুলাই। ওই দিন হরমুজ প্রণালির কাছে কাতারের একটি এলএনজিবাহী জাহাজ এবং সৌদি আরবের পতাকাবাহী একটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৩ দশমিক ৮৫ ডলারে ওঠে। একই সঙ্গে ওই নৌপথ ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর জন্য ঝুঁকির মাত্রাও বাড়িয়ে দেয় সংশ্লিষ্ট সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ।

রোববার হামলা-পাল্টা হামলার মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র চারটি জাহাজ চলাচল করেছে। আগের দিন শনিবার সেখানে আটটি জাহাজ চলাচল করেছিল। জাহাজ চলাচল অর্ধেকে নেমে আসায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

এসপিআই অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের বিশ্লেষক স্টিফেন ইনেস বলেন, বাজারকে এখন একই সঙ্গে পরস্পরবিরোধী দুটি বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে এগোতে হচ্ছে।

তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি কমে আসা এবং শ্রমবাজার কিছুটা দুর্বল হওয়ায় সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির চাপ সীমিত থাকতে পারে। তবে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআইয়ের দাম যদি দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকে, তাহলে পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয় বাড়বে। এর প্রভাবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও ধীর হয়ে যেতে পারে।

তথ্যসূত্র: চ্যানেল ২৪

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button