
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে পরাজয়ের পর আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসি দেশে ফিরেছেন। আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস এ তথ্য জানিয়েছে।
ফ্লোরিডা থেকে নিজ শহর রোসারিওতে পৌঁছেছেন ৩৯ বছর বয়সী এই ফুটবল কিংবদন্তি। সেখানে পরিবারের সঙ্গে কয়েকদিন সময় কাটিয়ে তিনি আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে মেজর লিগ সকার (এমএলএস) ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেবেন। তবে কবে দলে ফিরবেন, তা এখনো নিশ্চিত হয়নি।
বিশ্বকাপ ফাইনালে পরাজয়ের পর আর্জেন্টিনা দলের খেলোয়াড়রা বিভিন্ন গন্তব্যে রওনা হন। দলের ১৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সোমবার (২০ জুলাই) দেশে পৌঁছালে বিমানবন্দরে তাদের গ্রেনেডিয়ার রেজিমেন্টের ‘মুচাচোস’ গানের সুরে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এ সময় বিপুল সংখ্যক সমর্থক তাদের স্বাগত জানান।
এদিকে, ৩৯ বছর বয়সে মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকের ধারণা, ২০২৬ বিশ্বকাপই হতে পারে তার শেষ বিশ্বকাপ। তবে আর্জেন্টাইন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় দল থেকে অবসর নেওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি মেসি। ফলে স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালই তার শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ—এমনটি নিশ্চিত নয়।
ফাইনালে হারের একদিন পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তা দেন মেসি। রৌপ্যপদক গলায় ঝোলানো একটি ছবি প্রকাশ করে তিনি লেখেন, “এই কষ্ট অনেক বড়, এই ক্ষত সারতে অনেক সময় লাগবে।” একই সঙ্গে তিনি দলের লড়াই, সমর্থকদের ভালোবাসা এবং পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে দলের অর্জনের প্রশংসা করেন।
মেসি বলেন, শুধু ফাইনালের ফল দিয়ে এই দলের মূল্যায়ন করা উচিত নয়। কারণ, আর্জেন্টিনা টানা দুটি বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলেছে, যা দলের ধারাবাহিক সাফল্যেরই প্রমাণ।
পুরো ২০২৬ বিশ্বকাপে মেসি আর্জেন্টিনার অন্যতম সেরা পারফর্মার ছিলেন। তিনি টুর্নামেন্টে ৮টি গোল ও ৪টি অ্যাসিস্ট করে দলকে ফাইনালে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তবে শেষ পর্যন্ত শিরোপার স্বপ্ন পূরণ না হওয়ায় হতাশা নিয়েই শেষ হয় তার বিশ্বকাপ অভিযান।