
কথিত মাদক চোরাচালানকারী নৌকা লক্ষ্য করে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সাম্প্রতিক হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকা ও ক্যারিবীয় সাগরে তিনটি সন্দেহভাজন নৌযান লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর নির্দেশে মাদক কারবারিদের ‘নারকো-সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে চালানো মাসব্যাপী অভিযানের অংশ হিসেবে এটিকে অন্যতম প্রাণঘাতী দিন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড জানিয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দুটি নৌকায় আটজন এবং ক্যারিবীয় সাগরে একটি নৌকায় তিনজন নিহত হন।
মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে এ পর্যন্ত এমন হামলায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪৫ জনে। ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর সন্দেহভাজন মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি ব্যবহারের নির্দেশ দিলে ক্যারিবীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন পাচারপথে এখন পর্যন্ত ৪২টি হামলা চালানো হয়েছে।
সাউদার্ন কমান্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাম্প্রতিক হামলার কিছু ভিডিও প্রকাশ করে দাবি করেছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই নৌযানগুলোকে মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত হিসেবে শনাক্ত করা হয়। তবে প্রকাশিত ভিডিওতে মাদক বা অপরাধের সুস্পষ্ট প্রমাণ দেখা যায়নি বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন
এই অভিযানের বৈধতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও আইন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকের মতে, তাৎক্ষণিক সহিংসতার হুমকি ছাড়া সমুদ্রে এ ধরনের হামলা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শামিল হতে পারে।
ওয়াশিংটন অফিস অন ল্যাটিন আমেরিকা (WOLA) এক বিশ্লেষণে বলেছে, সমুদ্রে হামলার শিকার ব্যক্তিদের আইনি প্রক্রিয়া বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। তাদের দাবি, প্রশাসন যাকে ইচ্ছা সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ করছে-যা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হতে পারে।
আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট
ঘটনাগুলো ঘটেছে নিকোলাস মাদুরো-কে কারাকাস থেকে আটক করার কয়েক সপ্তাহের মধ্যে। মাদক, অস্ত্র ও নারকো-সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে তাকে নিউইয়র্কে বিচারের মুখোমুখি করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।
বর্তমানে ভেনেজুয়েলা উপকূলের কাছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর একাধিক যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রেখেছে। পাশাপাশি পারমাণবিক ইস্যুতে ইরান-কে ঘিরে সামরিক চাপের অংশ হিসেবে কিছু জাহাজ পূর্ব দিকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
যদিও ট্রাম্প প্রশাসন এ অভিযানকে মাদক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই হিসেবে উপস্থাপন করছে, তবে অভিযুক্ত পাচার চক্রগুলোর বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাব রয়েছে বলে অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান


