আন্তর্জাতিক খবর
প্রধান খবর

কে এই ‘ককরোচ’ পার্টির প্রধান অভিজিৎ দীপকে?

ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের খবর প্রকাশের পর মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে (সাবেক আওরঙ্গাবাদ) স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন ভগবান শঙ্কর দীপকে ও অনিতা দীপকে। গত ৬ জুনের পর শনিবার প্রথমবারের মতো স্বস্তি ফিরে এসেছে তাদের পরিবারে।

কারণ, তাদের ছেলে অভিজিৎ দীপকে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) গঠন করে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে আলোচনায় এসেছেন।

অভিজিতের মা অনিতা দীপকে বলেন, প্রায় আড়াই মাস ধরে শিক্ষার্থীরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করেছে। এটি শিক্ষার্থীদের বিজয়। তিনি বলেন, “অভিজিৎ ধৈর্য ধরে লড়াই করেছে, চড় খেয়েছে, অপমান সহ্য করেছে। কিন্তু এত কম বয়সে সে যা অর্জন করেছে, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য।”

ছবি: সংগৃহীত

পরিবারটির সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। অবসরপ্রাপ্ত সিভিল ইঞ্জিনিয়ার ভগবান শঙ্কর দীপকের ইচ্ছা ছিল ছেলে ইউপিএসসি পাস করে সরকারি কর্মকর্তা হবে। তবে পুণের সিংহগড় ইনস্টিটিউটে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হলেও অভিজিতের আগ্রহ ছিল সাংবাদিকতায়। পরে তিনি তিলক মহারাষ্ট্র বিদ্যাপীঠ থেকে ২০২১ সালে সাংবাদিকতায় স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

ছেলের আগ্রহকে গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষা ঋণ নিয়ে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠান বাবা। চলতি বছরের মে মাসে সেখান থেকে পাবলিক রিলেশন্সে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন অভিজিৎ।

এরপর ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) প্রতিষ্ঠা করেন তিনি।

ছবি: ফেসবুক থেকে

পরবর্তীতে নিট (NEET) পরীক্ষাসহ বিভিন্ন সরকারি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ সামনে এলে এই অনলাইন প্রতিবাদ ধীরে ধীরে রাজপথের বৃহৎ ছাত্র আন্দোলনে রূপ নেয়। অল্প সময়ের মধ্যেই অভিজিৎ সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের অন্যতম মুখপাত্র হয়ে ওঠেন।

এদিকে, অভিজিতের বাবা-মা দুজনেই বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। ছেলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থেকে তারাও আন্দোলনের সমর্থনে অনশনে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। পরিবারের দাবি, বাড়ির বাইরে পুলিশ মোতায়েন থাকায় তাদের কার্যত গৃহবন্দী অবস্থায় দিন কাটাতে হয়েছে।

শুরুর দিকে ছেলে রাজনীতিতে জড়াক, তা চাননি মা অনিতা। তবে পরে মত বদলান তিনি।

ছবি: ফেসবুক থেকে

অনিতা বলেন, “যখন দেখলাম, ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের জন্য লড়ছে, তখন আর নিজেকে আটকে রাখতে পারিনি।”

বাবা ভগবান শঙ্কর দীপকে বলেন, “আমি কখনো ভাবিনি, আমার ছেলে এতটা জনপ্রিয় হবে এবং দেশের সাধারণ শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠবে। তবে আমি নিশ্চিত, সে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেবে না।”

তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button