
তামিলনাড়ুর নারীদের জন্য একের পর এক জনকল্যাণমূলক ঘোষণা দিয়েছেন রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ বিজয়। বছরে তিনটি রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারের খরচ দেওয়া থেকে শুরু করে সরকারি বাসে নারীদের বিনা ভাড়ায় যাতায়াতের সুবিধা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে কৃষিজমি ও স্থানীয় মানুষের জীবিকা রক্ষার যুক্তিতে চেন্নাইয়ের প্রস্তাবিত পরন্দুর বিমানবন্দর প্রকল্প বাতিলের কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজ্য বিধানসভায় এসব ঘোষণা দেন সি. জোসেফ বিজয়।
‘অন্নপূর্ণি সুপার সিক্স’ প্রকল্পের আওতায় বছরে তিনটি রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারের খরচ সুবিধাভোগীদের ব্যাংক হিসাবে সরাসরি দেওয়া হবে। আগামী বছরের পঙ্গল উৎসব থেকে এ প্রকল্প চালু হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ পরিবার এই সুবিধার আওতায় আসবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে বছরে ৪ হাজার কোটি রুপির বেশি খরচ হতে পারে।
বার্ষিক আয় আড়াই লাখ রুপির মধ্যে থাকা পরিবার, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের পরিবার এবং প্রতিবন্ধী সদস্য থাকা পরিবারকে এ সুবিধার আওতায় আনা হবে।
উপভোক্তারা প্রথমে গ্যাসের সিলিন্ডার কিনবেন। পরে কেনার প্রমাণপত্রের ভিত্তিতে সেই অর্থ সরাসরি তাদের ব্যাংক হিসাবে ফেরত দেওয়া হবে। এতে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর রান্নার জ্বালানি খরচে স্বস্তি মিলবে বলে আশা করছে সরকার।
নারীদের জন্য গণপরিবহণেও সুবিধা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এতদিন রাজ্যের সাধারণ সরকারি বাসে নারীদের বিনা ভাড়ায় যাতায়াতের সুযোগ ছিল। এবার এই সুবিধার আওতা আরও বাড়ানো হচ্ছে।
আগামী ২ অক্টোবর থেকে নারীরা বিভিন্ন শ্রেণির সরকারি বাসে-এর মধ্যে দ্রুতগামী ও বিলাসবহুল বাসও রয়েছে-বিনা ভাড়ায় যাতায়াত করতে পারবেন। এ সুবিধা নেওয়ার ক্ষেত্রে যাতায়াতের সংখ্যার কোনো সীমাও থাকবে না।
চেন্নাইয়ের দ্বিতীয় বিমানবন্দর তৈরির জন্য পরন্দুরে নেওয়া প্রকল্পটিও বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়।
তার যুক্তি, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবিকায়ও নেতিবাচক প্রভাব পড়ত।
চেন্নাইয়ের জন্য নতুন বিমানবন্দরের প্রয়োজন রয়েছে জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, কৃষিজমি ও বসতবাড়ির ক্ষতি কম হয়—এমন বিকল্প জায়গা খোঁজা হবে।
রান্নার গ্যাসে আর্থিক সহায়তা, নারীদের জন্য সরকারি বাসে বাড়তি সুবিধা এবং কৃষিজমি রক্ষায় বিমানবন্দর প্রকল্প বাতিল—একসঙ্গে এসব সিদ্ধান্তকে বিজয় সরকারের বড় জনমুখী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সরকারের ভাষ্য, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যয় কমানোই এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
তথ্যসূত্র: সময়ের কণ্ঠস্বর



