
নেপাল ও চীন সীমান্তবর্তী পাহাড়ি অঞ্চলে স্মরণকালের ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল ও ধারাবাহিক ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৪৩ জনে। প্রলয়ংকরী এই দুর্যোগে এখনও অন্তত সাড়ে চার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
দুর্যোগের পর বিস্তীর্ণ পাহাড়ি জনপদ মাটির নিচে চাপা পড়েছে। বহু পাহাড়ি সড়ক ধ্বংস হয়ে যাওয়া, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়ায় দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে উদ্ধার তৎপরতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেপালি সেনাবাহিনী ও পুলিশের ১০ হাজারেরও বেশি সদস্য প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেই উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। উদ্ধার অভিযানে গতি আনতে তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন ভারত ও চীনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা।
প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে ঘরবাড়ি ও সহায়-সম্বল হারিয়ে গৃহহীন হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ। তারা বিভিন্ন অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। সেখানে জরুরি খাদ্য, ওষুধ এবং বিশুদ্ধ পানির চরম সংকট দেখা দিয়েছে।
এদিকে, নজিরবিহীন এই দুর্যোগের বিপুল ক্ষয়ক্ষতি সামাল দিতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জলবায়ু ক্ষতিপূরণ দাবি করার জোরালো প্রস্তুতি নিচ্ছে নেপাল সরকার।
দেশটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের পেছনে প্রধানত দায়ী অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণকারী উন্নত ও বৃহৎ শিল্পোন্নত দেশগুলো। এই জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের কারণে নেপালের মতো দেশগুলোকে বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: যমুনা টিভি



