
নিজস্ব প্রতিবেদক: রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্বজনদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনার জেরে কর্মবিরতিতে থাকা বগুড়ার শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা বহির্বিভাগের চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে দূরদূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল পৌনে ১০টার দিকে হাসপাতালের বহির্বিভাগের টিকিট কাউন্টার বন্ধ করে দেন আন্দোলনরত ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। ফলে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের অনেকেই হাসপাতাল থেকে ফিরে যেতে বাধ্য হন। তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানান কর্তৃপক্ষ।
আন্দোলনরত ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা জানান, তাঁদের চার দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত বহির্বিভাগের চিকিৎসাসেবা বন্ধ থাকবে।
বৃহস্পতিবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের পক্ষে ডা. রাতুল মণ্ডল স্নিগ্ধ, ডা. অর্পন ও ডা. রিদওয়ান উদ্দিন চার দফা দাবি তুলে ধরেন।
দাবিগুলোর মধ্যে- হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা, হাসপাতালে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সশস্ত্র আনসার মোতায়েন করা, অতিরিক্ত রোগীর চাপ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এবং একজন রোগীর সঙ্গে সর্বোচ্চ একজন অ্যাটেনডেন্ট থাকার ব্যবস্থা করা।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতির কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, চিকিৎসক, নার্স এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক রাখা এবং উদ্ভূত সমস্যা সমাধানের বিষয়ে আলোচনা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
এর আগে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে শজিমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তাঁর স্বজনদের সঙ্গে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের আব্দুল মালেক (৫০) অ্যাজমাজনিত সমস্যা নিয়ে মঙ্গলবার শজিমেক হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি হন। রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালের বেডেই তাঁর মৃত্যু হয়।
রোগীর মৃত্যুর পর স্বজনেরা কর্তব্যরত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ করেন। তাঁদের দাবি, একজন ইন্টার্ন চিকিৎসকের দেওয়া ভুল ইনজেকশনের কারণেই আব্দুল মালেকের মৃত্যু হয়েছে।
এ নিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে প্রথমে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়।
ঘটনার পর মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে কর্মবিরতি শুরু করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। বুধবার সংবাদ ব্রিফিংয়ে আন্দোলনকারীরা দাবি করেন, সংঘর্ষে তাঁদের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ছয়জনের আঘাত গুরুতর বলেও দাবি করা হয়।
হামলাকারীদের গ্রেপ্তার, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ চার দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তাঁরা।
এ ঘটনায় বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থানায় মামলা করে। পরে পুলিশ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
শজিমেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মঞ্জুর-এ-মোর্শেদ বলেন, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতির কারণে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয়নি। মিডলেভেল চিকিৎসক, সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধানসহ অন্যান্য চিকিৎসকেরা নিয়মিত চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন।



