আন্তর্জাতিক খবর
প্রধান খবর

রিয়াদ বিমানবন্দরে হুথিদের জোড়া ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, পাইলটসহ নিহত ৩

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের জোড়া ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক পাইলটসহ তিন সৌদি নাগরিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন দেশি-বিদেশি নাগরিক আহত হয়েছেন।

হামলার পর বিমানবন্দরে পার্ক করে রাখা সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা সৌদিয়ার একটি বিমানে আগুন ধরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে ৩৩০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল করেছে কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে পরপর দুটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম ক্ষেপণাস্ত্রটি বিমানবন্দর প্রাঙ্গণে আঘাত হানে। দ্বিতীয়টি রানওয়ে ও টার্মিনালে থাকা সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের একটি বাণিজ্যিক বিমানে আঘাত করে।

সৌদি সিভিল এভিয়েশন অথরিটি (জিএসিএ) ও সৌদিয়া এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ওই বিমানের একজন পাইলট রয়েছেন। অগ্নিকাণ্ডের সময় বিমানটিতে কোনো যাত্রী ছিলেন না।

ইন্ডিয়া টুডের খবরে বলা হয়েছে, হামলার জেরে রিয়াদ বিমানবন্দরে ব্যাপক ফ্লাইট বিপর্যয় দেখা দেয়। ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত আগমন ও প্রস্থানের প্রায় ৪৫ শতাংশ ফ্লাইট বাতিল করা হয়। এ ছাড়া বেশ কিছু ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে।

পরিস্থিতির কারণে ভারতের বিভিন্ন এয়ারলাইন্স এবং জার্মান বিমান সংস্থা লুফথানসা সৌদি রাজধানীতে তাদের ফ্লাইট পরিষেবা স্থগিত ঘোষণা করেছে।

হুথিরা এ হামলার দায় স্বীকার করে জানিয়েছে, রিয়াদ বিমানবন্দর ছাড়াও ইয়েমেন সীমান্তবর্তী নাজরান শহরের একটি বিমানবন্দর এবং খামিস মুসাইত বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

হুথি সামরিক মুখপাত্রের দাবি, গত ২৪ ঘণ্টায় ইয়েমেনে সৌদি জোটের ৬০টি বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাব দিতেই এ পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে।

এর আগে গত বুধবার সৌদি সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ জানায়, ৬ ও ৭ অক্টোবর আবহা ও কিং খালিদ বিমানবন্দরে হুথিদের পৃথক হামলায় তিনজন নিহত এবং ২৮ জন আহত হয়েছিলেন।

ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সরকারি বাহিনীকে সমর্থন দেওয়ায় সৌদি আরবকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে হুথি গোষ্ঠী। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সংঘাত আরও বেড়েছে। দ্রুত আক্রমণের মাধ্যমে লোহিত সাগর উপকূলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কিছু এলাকা দখলের দাবি করেছে হুথিরা।

এসব এলাকার মধ্যে বাব আল-মান্দেব প্রণালীর মোখা বন্দরও রয়েছে। লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তের এই সংকীর্ণ প্রণালি বৈশ্বিক নৌবাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে ইয়েমেনের আধা-সরকারি বাহিনী জানিয়েছে, তারা বাব আল-মান্দেব প্রণালি সুরক্ষিত করেছে।

ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের কাছ থেকে হুথিদের ক্ষমতা দখল ঠেকাতে আরব দেশগুলো একত্রিত হওয়ার পর ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট গঠিত হয়।

বছরের পর বছর বিমান হামলা ও স্থলযুদ্ধে বিপুল প্রাণহানি এবং ব্যাপক মানবিক সংকটের পর ২০২২ সালে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতা করা হয়েছিল। তবে অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি জুলাই থেকে ভাঙতে শুরু করে।

হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধের ঘোষণা দিয়ে লোহিত সাগরে সৌদি বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা ও ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা শুরু করে। গোষ্ঠীটির দাবি, দীর্ঘদিনের সৌদি অবরোধ ও সানা বিমানবন্দরে বিমান হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এসব হামলা চালানো হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: টিবিএস নিউজ

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button