মধ্যপ্রাচ্যের ৬ মুসলিম দেশ গোপনে ইসরাইলকে সহায়তা করেছে

ছবি: সংগৃহীত
মুখে গণহত্যাকে নৃশংস ও বর্বর বলে নিন্দা জানালেও, মধ্যপ্রাচ্যের ছয় মুসলিম দেশ গোপনে গাজাবাসীর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে ইসরাইলের পাশে দাঁড়িয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্ট সদ্য ফাঁস হওয়া মার্কিন গোপন নথির বরাতে এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
নথি অনুযায়ী, সৌদি আরব, বাহরাইন, মিসর, জর্ডান, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ‘আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো’ নামে এক গোপন সামরিক জোটে যুক্ত ছিল। এই দেশগুলো গোপনে ইসরাইলি সেনা ও মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে যৌথ মহড়া, বৈঠক ও গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান চালিয়ে গেছে।
২০২৪ সালের মধ্যে তারা যুক্তরাষ্ট্রের রাডার ও সেন্সর নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মোকাবিলার নামে ইসরাইলের সামরিক অভিযানে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। নথিতে উল্লেখ, ২০২২ সালে গঠিত এই জোটের মূল উদ্দেশ্য ছিল ইরানের হুমকি মোকাবিলা করা, কিন্তু বাস্তবে বড় অংশের কার্যক্রম ছিল গাজা ও হামাসবিরোধী যুদ্ধ প্রশিক্ষণ ও তথ্য বিনিময়।
জোটের দেশগুলো টানেল যুদ্ধ, আকাশ প্রতিরক্ষা ও সাইবার নিরাপত্তা প্রশিক্ষণে অংশ নেয়, যা গাজার ইসরায়েলি হামলায় ব্যবহার হয়। সেপ্টেম্বর ২০২৩-এ দোহায় ইসরাইলি হামলায় হামাস নেতাদের নিহত হওয়ার পর জোটটি সংকটে পড়ে। ওই ঘটনায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইসরাইলিকে কাতারের কাছে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করেন।
৭ অক্টোবর ২০২৩-এ যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আরব নেতারা প্রকাশ্যে গাজার মানুষের পক্ষে বক্তব্য দিলেও, বাস্তবে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের আঞ্চলিক হুমকি ফিলিস্তিনের চেয়ে বেশি গুরুত্ব রাখায় তারা গোপনে ইসরাইলের পাশে দাঁড়িয়েছে।
তথ্যসূত্র: যুগান্তর



