আইন ও অপরাধ
প্রধান খবর

কারণ না জানিয়ে নাগরিকের আবেদন অনির্দিষ্টকাল ফেলে রাখা যাবে না: হাইকোর্ট

সরকারি প্রশাসনের কাছে কোনো নাগরিকের আবেদন কারণ না দেখিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য ফেলে রাখা যাবে না বলে স্পষ্ট করেছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, এ ধরনের নিষ্ক্রিয়তা সুষ্ঠু ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনের পরিপন্থী।

ব্যক্তিগত মালিকানাধীন অব্যবহৃত পুকুর ভরাটের অনুমতি চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করার পর দীর্ঘদিন কোনো সিদ্ধান্ত না পেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন মো. শাহজাহান সরদারসহ দুই ব্যক্তি। তাদের করা রিট আবেদনের শুনানি শেষে এ পর্যবেক্ষণ দেন আদালত।

রোববার (৮ নভেম্বর) এ মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়। এর আগে গত ৪ নভেম্বর বিচারপতি মো. তৌফিক ইনাম ও বিচারপতি মাহমুদ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ এইচ এম মুশফিকুর রহমান তুহিন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, আবেদনকারীরা তাদের মালিকানাধীন অব্যবহৃত পুকুর মাটি ও বালু দিয়ে ভরাটের অনুমতি চেয়ে ২০২৫ সালের ১৯ জানুয়ারি নাটোরের জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে লিখিত আবেদন করেন। তবে দীর্ঘদিন পার হলেও জেলা প্রশাসক বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেননি কিংবা আবেদনকারীদের কিছু জানাননি।

কর্তৃপক্ষের এমন নিষ্ক্রিয়তার বিরুদ্ধে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে হাইকোর্টে রিট করেন আবেদনকারীরা।

রায়ে হাইকোর্ট বলেন, কোনো নাগরিক উপযুক্ত সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে সিদ্ধান্ত চেয়ে আবেদন করলে যুক্তিসংগত সময়ের মধ্যে লিখিত ও যুক্তিসংগত কারণ উল্লেখ করে আদেশের মাধ্যমে তা জানানো প্রশাসনের মৌলিক দায়িত্ব। কোনো কারণ না জানিয়ে আবেদন অনির্দিষ্টকালের জন্য ঝুলিয়ে রাখা নাগরিকের সময়মতো বিচার পাওয়ার বৈধ প্রত্যাশাকে ক্ষুণ্ন করে।

তবে পুকুরটি ভরাটের অনুমতি আবেদনকারীরা পাবেন কি না, সে বিষয়ে আদালত কোনো মতামত দেননি। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক স্বাধীনভাবে ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন বলে স্পষ্ট করেছেন হাইকোর্ট।

একই সঙ্গে রায়ের অনুলিপি পাওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে প্রচলিত আইন অনুযায়ী যুক্তিসংগত লিখিত আদেশের মাধ্যমে আবেদনটি বিবেচনা ও নিষ্পত্তি করতে নাটোরের জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ টাইম্স

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button