আইন ও অপরাধ

আরএমও ডা. কাজলের উপর হামলায় থানায় অভিযোগ, আটক ৩

বগুড়ায় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ মোঃ শফিক আমিন কাজলকে ৫ লক্ষ টাকা চাঁদার দাবিতে প্রান নাশের চেষ্টা ও হুমকি দেয়া হয়েছে। এসময় তার চেম্বার থেকে তার হাতে থাকা মোবাইল ফোব ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

এ ঘটনায় বগুড়া সদর থানায়, বগুড়া সদর উপজেলা ঠনঠনিয়া এলাকার আবু সাঈদ,জহুরুলনগর এলাকার মনির হোসেন,শিবগঞ্জ উপজেলার রাখাল চন্দ্র,বারপুর (দক্ষিণপাড়া) এলাকার নাজমুস সাকিব,সূত্রাপুর এলাকার হারুন অর রশিদ সহ অজ্ঞাতনামা আরো ২/৩ জন এর নামে অভিযোগ করা হয়েছে।

এদিকে ঘটনার পরপরই ৩ জনকে আটক করা করেছে বগুড়া সদর থানা পুলিশ।

আটককৃতরা হলেন- ব্যবসায়ী আবু বক্কর সিদ্দিক বিপ্লব, শহরের জুবলি হাই স্কুলের সহকারি শিক্ষক হারুনার রশিদ ও শহরের নিউ মার্কেটের ব্যবসায়ী নাজমুস সাকিব।

অভিযোগ সুত্রে জানা যায় গতকাল ১০ আগষ্ট বিকাল অনুমান ৪. ঘটিকার সময় ডাঃ কাজলের গ্রামের বাড়ী শিবগঞ্জ থানাধীন আটমুল বাজারে গিয়ে উক্ত বাজারে থাকা তার পৈত্রিক ২৯ শতাংশ জমিতে থাকা ০৮ (আট) দোকান ঘর এর দোকানদারদের অভিযুক্তরা জানান যে, উক্ত দোকান সমূহ আসামীগন ক্রয় করেছে এবং দোকানের ভাড়া ডাঃ কাজলকে না দিয়ে তাদেরকে দেওয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করে। উক্ত সময় দোকানদারগন ডাঃ কাজলকে মোবাইল ফোনে বিষয়টি অবহিত করলে তিনি আসামীদের সাথে কথা বলতে চাইলে ০২ নং আসামী নিজেকে বগুড়া এপিবিএন এর পুলিশ ইন্সপেক্টর পরিচয় দিয়ে তার সাথে কথা বলে এবং তার উপরোক্ত জমি ক্রয় করেছে মর্মে জানায়। ০২ নং আসামীর সাথে কথা বলার এক পর্যায়ে আসামী ডাঃ কাজলের ঠিকানা জানতে চাইলে তাকে ঠিকানা বলার সঙ্গে সঙ্গে আসামীগন জানায় তারা যে কোন সময় বগুড়া উপশহরস্থ কাজলের বাড়ীতে আসবে। উক্ত কথা বলার পর গতকাল বিকাল অনুমান ০৬  ঘটিকার সময় উপরোক্ত সকল আসামীগন ০৩ (তিন) মোটরসাইকেল যোগে উপশহরস্থ কাজলের বাড়ীতে আসে, যার মধ্যে ০২ নং আসামীর ব্যবহৃত হোন্ডা কোম্পানীর এক্স-ব্রেড মডেলের ০১ টি মোটর সাইকেল যার রেজিঃ নং-বগুড়া ল ১৩-৩২৫১ এবং তার সামনে পুলিশ লেখা ছিল। কাজল আসামীদেরকে তার বাড়ীর নিচতলায় অবস্থি চেম্বারে বসতে বললে আসামীদ্বয় আমার চেম্বারে প্রবেশ করে এবং অন্যান্য আসামীগন আমার চেম্বারে বসতে অস্বীকার করে।কথা বলার এক পর্যায়ে আসামীদ্বয় বলেন উল্লেখিত জায়গার দাবী তারা ছেড় দিবেন, কিন্তু তার পরিবর্তে তাদেরকে ৫,০০,০০০/- (পাঁচ লক্ষ) টাকা চাঁদা দিতে হবে। ডাঃ কাজল তার পৈত্রিক ও দখলভুক্ত সম্পত্তির দাবী ছাড়তে ও আসামীদের দাবীকৃত চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে আসামীদ্বয় তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং তাদের গালিগালাজ করতে নিষেধ করলে ০১ ও ০৩ নং আসামীদ্বয় আমাকে এলোপাথারী ভাবে কিলঘুষি মারলে আমি মোবাইল ফোনে ভিডিও করতে গেলে ০১ নং আসামী আমার কাছে থাকা ONE NORD মডেলের মোবাইল ফোন আমার হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে আমার চেম্বার হতে বাহির হয়ে যায়।ডাঃ আসামীদের কাছে তার মোবাইল ফেরত চাইতে তার চেম্বারের বাহিরে গেলে ০২ নং আসামী তাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয় এবং ০৩ নং আসামী আমার গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করে। উক্ত সময় সকল আসামীগনসহ অজ্ঞাতনামা আরো ২/৩ জন আসামী আমাকে এলোপাথারী ভাবে কিলঘুষি ও লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে ০৩ নং আসামী বাড়ীর সামনে পড়ে থাকা ইট দিয়ে তার ডান পয়ে আঘাত করে ডান পায়ের গোড়ালীর উপরে কাটা রক্তাক্ত জখম করে দেয়। উক্ত সময় ডাঃ কাজলের ডাক চিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে আসলে আসামীগন যে কোন সময় আমাকে খুন অথবা বড় ধরনের ক্ষতি করবে বলে হুমকী প্রদান করে চলে যায়।

এ বিষয়ে বগুড়া জেলা পুলিশের মিডিয়া মুখপাত্র ও সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ জানান, বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।ঘটনার পরপরই ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button