লাইফস্টাইল

দীর্ঘদিন সুস্থ থাকতে চাইলে এই ৫ অভ্যাস চর্চা করুন

যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন সুস্থ শরীর পেতে হলে চাই ধৈর্য, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও কয়েকটি নির্দিষ্ট অভ্যাস। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত এই পাঁচটি অভ্যাস অনুসরণ করলে মানসিক ও শারীরিক সুস্থতা দুই-ই বজায় থাকে।

১. ধ্যান ও মনঃসংযোগ
হার্ভার্ডের গবেষণায় বলা হয়েছে, ধ্যান ও মনঃসংযোগ মানসিক চাপ কমায়, মনোযোগ বাড়ায় এবং মানুষকে বর্তমানের সঙ্গে সংযুক্ত রাখে। অতীত বা ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা করায় কর্টিসলসহ কিছু হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়, যা রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমিয়ে দেয় ও হৃদ্‌স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে।
প্রতিদিন কিছুক্ষণ মনোযোগী হয়ে হাঁটা, প্রকৃতি দেখা, ধীরেসুস্থে খাবার খাওয়ার মতো সহজ অভ্যাসও কার্যকর। স্ট্রেস বেড়ে গেলে ‘বক্স ব্রিদিং’ নামের ছন্দময় শ্বাস-প্রশ্বাস অনুশীলন করলে মানসিক চাপ কমে।

২. ভালো ঘুম
গবেষকদের মতে, প্রতিদিন সাত ঘণ্টা গুণগত ঘুম শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে, মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা উন্নত করে।
রাতভর এপাশ-ওপাশ করা বা বারবার ঘুম ভাঙলে উপকার মেলে না। আবার ৯ ঘণ্টার বেশি ঘুম শরীরের জন্য ক্ষতিকর। তাই নিয়মিত, গভীর ঘুমই শরীরের কোষ পুনর্গঠন ও হরমোনের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক।

৩. সুষম খাদ্যাভ্যাস
হার্ভার্ডের পরামর্শ, দীর্ঘায়ুর জন্য খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে প্রাকৃতিক ও গোটা শস্যজাতীয় খাবার—যেমন ফল, সবজি, ডাল ও বীজ।
অন্যদিকে, প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও কৃত্রিম উপাদান থেকে দূরে থাকতে হবে। এগুলো শরীরের প্রদাহ বাড়ায় ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল করে।
খাওয়ার ক্ষেত্রে মন কী চাইছে, তার চেয়ে শরীরের পুষ্টি চাহিদাকে গুরুত্ব দিলে হজম ভালো হয় ও খাবারের প্রতি নিয়ন্ত্রণ গড়ে ওঠে।

৪. নিয়মিত হাঁটাচলা
হার্ভার্ডের গবেষণায় বলা হয়, ব্যায়ামকে কষ্টকর না ভেবে আনন্দের সঙ্গে জীবনযাপনের অংশ করে নেওয়াই কার্যকর। হাঁটতে হাঁটতে কথা বলা, লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার, অফিসের বিরতিতে স্ট্রেচিং, বাগান করা বা নাচ—এসবই শরীরচর্চা হিসেবে গণ্য।
দিনে যতটা সম্ভব চলাফেরা বজায় রাখতে হবে, কারণ ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকা রক্তনালি ও বিপাকীয় তন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর।

৫. দূষণ থেকে সুরক্ষা
হার্ভার্ডের মতে, বায়ুদূষণ ও মাইক্রোপ্লাস্টিক শরীরের জন্য গুরুতর ক্ষতিকর। বাতাসে থাকা ক্ষতিকর কণা রক্তে মিশে ফুসফুস, হৃৎপিণ্ড ও অন্যান্য অঙ্গে ক্ষতি করে।
সমাধান হিসেবে তারা পরামর্শ দিচ্ছে—এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার, ফিল্টার করা পানি পান, প্লাস্টিকের বদলে কাচ বা স্টেইনলেস পাত্র ব্যবহার, রান্নাঘরে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখা এবং ঘরে-বাইরে গাছ লাগানোর।


এসব অভ্যাস দূষণের ক্ষতি পুরোপুরি না রোধ করলেও উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনে।

সূত্র: জিকিউ

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button