লাইফস্টাইল
প্রধান খবর

জ্বালানিসংকটে সংসার খরচ চালাতে কী কী প্রস্তুতি নিতে পারেন

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে। বর্তমানে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে ইরানের নানা নিষেধাজ্ঞার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশেও। বিভিন্ন এলাকায় তেলের পাম্পে গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে পরিবহন ও উৎপাদন খাতে ব্যয় বাড়ছে, যা শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে আগেভাগে পরিকল্পনা, সাশ্রয়ী জীবনযাপন ও সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলাই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর প্রস্তুতি।

কেন প্রস্তুতি জরুরি
জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন ব্যয় বাড়ে, যার প্রভাব পড়ে খাদ্যসহ প্রায় সব পণ্যের দামে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে নিত্যপণ্যের দাম ও মূল্যস্ফীতির চাপও বাড়ে।

তাই সম্ভাব্য অর্থনৈতিক চাপ মোকাবেলায় এখন থেকেই সচেতন পরিকল্পনা জরুরি।

নতুন মাসিক বাজেট করুন
জ্বালানি সংকটের সময়ে পুরোনো বাজেট কার্যকর নাও থাকতে পারে। তাই নতুন করে মাসিক বাজেট তৈরি করা প্রয়োজন।

  • পরিবহন, বিদ্যুৎ ও খাদ্যে সম্ভাব্য বাড়তি খরচ ধরতে হবে।
  • অপ্রয়োজনীয় খাত যেমন বিলাসী ব্যয় বা অতিরিক্ত বিনোদন কমাতে হবে।
  • খাদ্য ও চিকিৎসার মতো জরুরি খাতে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

যাতায়াত খরচ কমানোর কৌশল
জ্বালানির দাম বাড়লে সবার আগে পরিবহন ব্যয় বাড়ে। তাই

  • ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমানো যেতে পারে।
  • সম্ভব হলে গণপরিবহন ব্যবহার করা ভালো।
  • প্রয়োজন ছাড়া দূরের যাতায়াত এড়িয়ে চলা যেতে পারে।

বিদ্যুৎ ও গ্যাস ব্যবহারে সাশ্রয়
জ্বালানি সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচও বাড়তে পারে। তাই

  • অপ্রয়োজনীয় লাইট ও ফ্যান বন্ধ রাখতে হবে।
  • বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা উচিত।
  • রান্নার সময় গ্যাসের অপচয় কমাতে হবে।

খাবার খরচ নিয়ন্ত্রণ করুন
জ্বালানি তেলের দামের প্রভাব খাদ্যদ্রব্যেও পড়তে পারে। তাই

  • মাসিক বাজারের তালিকা করে কেনাকাটা করা ভালো।
  • স্থানীয় ও মৌসুমি পণ্য কেনার চেষ্টা করা উচিত।
  • খাবারের অপচয় কমিয়ে সংরক্ষণে গুরুত্ব দিতে হবে।

জরুরি তহবিল গড়ে তুলুন
এ ধরনের অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে অন্তত তিন থেকে ছয় মাসের খরচের সমপরিমাণ সঞ্চয় রাখা নিরাপদ।

  • প্রতি মাসে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা আলাদা করে রাখা যেতে পারে।
  • চিকিৎসা বা শিক্ষার মতো জরুরি খাতে এই তহবিল কাজে লাগানো যাবে।

ঋণ ও কিস্তি ব্যবস্থাপনায় সতর্কতা
আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য নষ্ট হলে ঋণের চাপ বাড়তে পারে। তাই

  • নতুন ঋণ নেওয়া এড়িয়ে চলা উচিত।
  • বেশি সুদের ঋণ দ্রুত পরিশোধের চেষ্টা করা প্রয়োজন।
  • ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে সংযমী হওয়া ভালো।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি সংকট সরাসরি মানুষের মাসিক ব্যয়ে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তাই আগেভাগে পরিকল্পনা ও সাশ্রয়ী জীবনযাপনই এ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

সূত্র: প্রথম আলো

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button