
গরমের দিনে মাথাব্যথা খুব সাধারণ একটি সমস্যা। তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকেরই মাথাব্যথা দেখা দেয়। বেশিরভাগ মানুষ এটিকে স্বাভাবিক গরমজনিত সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যান। তবে সব মাথাব্যথাই এক ধরনের নয়। কিছু ক্ষেত্রে এর পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে মাইগ্রেন, যা তুলনামূলক জটিল একটি সমস্যা।
গরমের মাথাব্যথা ও মাইগ্রেনের পার্থক্য
গরমে হওয়া সাধারণ মাথাব্যথা সাধারণত হালকা বা মাঝারি ধরনের হয়। এতে মাথায় চাপ বা ভারী ভাব অনুভূত হয়। ঠান্ডা পরিবেশে গেলে, পানি পান করলে বা বিশ্রাম নিলে সাধারণত আরাম পাওয়া যায়।
অন্যদিকে, Migraine-এর ব্যথা অনেক বেশি তীব্র হয় এবং বেশিরভাগ সময় মাথার একপাশে দপদপ করতে থাকে। এর সঙ্গে বমি বমি ভাব, বমি, আলো বা শব্দে অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা দেখা দিতে পারে। বারবার এমন ব্যথা হলে এবং দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হলে সেটি মাইগ্রেন হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
গরমে মাথাব্যথা কেন বাড়ে
গরমে মাথাব্যথার অন্যতম প্রধান কারণ হলো শরীরে পানি শূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন। ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে পানি ও প্রয়োজনীয় লবণ বেরিয়ে গেলে মাথাব্যথা শুরু হতে পারে।
এ ছাড়া আরও কিছু কারণ রয়েছে-দীর্ঘ সময় রোদে থাকা, অনিয়মিত খাবার খাওয়া, ঘুমের ঘাটতি, অতিরিক্ত ক্যাফেইন বা ঠান্ডা পানীয় গ্রহণ। যাদের আগে থেকেই মাইগ্রেন আছে, তাদের ক্ষেত্রে তীব্র রোদ ও অতিরিক্ত গরম বড় ট্রিগার হিসেবে কাজ করতে পারে।
মাইগ্রেন শুরুর আগের লক্ষণ
অনেক সময় মাইগ্রেন হঠাৎ শুরু না হয়ে আগে থেকেই কিছু সংকেত দেয়। যেমন অস্বাভাবিক ক্লান্তি, মেজাজ পরিবর্তন, অতিরিক্ত ক্ষুধা বা ক্ষুধামন্দা, ঘাড়ে টান, আলো-শব্দ-গন্ধে অস্বস্তি কিংবা চোখে ঝাপসা দেখা। এসব লক্ষণ শনাক্ত করতে পারলে আগে থেকেই সতর্ক হওয়া যায়।
গরমে মাথাব্যথা কমাতে করণীয়
পর্যাপ্ত পানি পান করা, সকাল ১১টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত রোদ এড়িয়ে চলা, বাইরে বের হলে টুপি, ছাতা বা সানগ্লাস ব্যবহার করা, নিয়মিত খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা এবং ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় কম খাওয়া উপকারী হতে পারে। পাশাপাশি মানসিক চাপ কমাতে ব্যায়াম বা Meditation করা যেতে পারে।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি
হঠাৎ খুব তীব্র মাথাব্যথা শুরু হলে, জ্বর বা ঘাড় শক্ত হয়ে গেলে, খিঁচুনি দেখা দিলে, কথা বলতে সমস্যা হলে, শরীরের কোনো অংশ অবশ হয়ে গেলে, মাথায় আঘাতের পর ব্যথা শুরু হলে কিংবা ওষুধেও ব্যথা না কমলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
গরমে মাথাব্যথা হওয়া স্বাভাবিক হলেও এর ধরন বুঝতে পারা জরুরি। কখন এটি সাধারণ সমস্যা আর কখন এটি মাইগ্রেনের ইঙ্গিত দিচ্ছে-তা বুঝতে পারলে বড় জটিলতা এড়ানো সম্ভব।
তথ্যসূত্র: যুগান্তর



