
বিছানায় শুয়ে রাতবিরাতে সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল করতে করতে হঠাৎই মনে পড়ে যায় প্রাক্তনের কথা। এরপর ইনস্টাগ্রাম বা ফেসবুকের সার্চ বারে নাম লিখে শুরু হয় তার নতুন ছবি দেখা, সম্পর্কের খবর জানার চেষ্টা কিংবা বর্তমান জীবন সম্পর্কে কৌতূহল মেটানো। কিন্তু এই অভ্যাস কেন তৈরি হয় এবং কীভাবে তা থেকে বেরিয়ে আসা যায়-সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাক্তনের সোশ্যাল মিডিয়া ঘেঁটে দেখার পেছনে একাধিক মানসিক কারণ কাজ করে। ভেলভেট ব্র্যান্ডসের সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ জ্যাকারি জেন বলেন, অনেকেই জানতে চান প্রাক্তন তাকে নিয়ে কিছু পোস্ট করেছে কি না বা বিচ্ছেদের পর কে বেশি ভালো আছে।
সমাজবিজ্ঞানী ড. জেস কার্বিনোর মতে, অনেকেই প্রাক্তনের বর্তমান অবস্থান বোঝার জন্য শুধু সোশ্যাল মিডিয়াই নয়, এমনকি তার নেটফ্লিক্স অ্যাক্টিভিটিও পর্যবেক্ষণ করেন। তবে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাজানো পোস্ট বা ছবির মাধ্যমে একজন মানুষের প্রকৃত মানসিক অবস্থা বোঝা সম্ভব নয়।
থেরাপিস্ট এমা জনসনের ভাষ্য, এই অভ্যাস মানুষকে সাময়িকভাবে যোগাযোগ বা নিয়ন্ত্রণের অনুভূতি দিলেও বাস্তবে তা এক ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি করে। বিচ্ছেদের পর মানুষ শুধু একজন সঙ্গীকেই হারায় না, বরং একসঙ্গে গড়ে ওঠা অভ্যাস ও দৈনন্দিন জীবনের একটি অংশও হারিয়ে ফেলে। তাই অনেকেই পুরোনো জীবনের সঙ্গে সংযোগ ধরে রাখতে প্রাক্তনের প্রোফাইল দেখতে থাকেন।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, যদি এই অভ্যাস মানসিক অস্বস্তি বা উদ্বেগ বাড়ায়, তাহলে নিজেকে প্রশ্ন করা উচিত—‘আমি এখন কেন তার প্রোফাইল দেখতে চাই?’ এর উত্তর হতে পারে একাকীত্ব, স্মৃতিকাতরতা কিংবা শুধুই অলস সময় কাটানো।
এ অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসার জন্য কয়েকটি কার্যকর উপায়ের কথাও জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, প্রয়োজন হলে প্রাক্তনকে আনফলো, মিউট বা ব্লক করা দুর্বলতার নয়; বরং নিজের মানসিক সীমানা রক্ষার একটি উপায়। প্রয়োজনে সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ কিছু সময়ের জন্য মুছে ফেলা বা ব্যবহারের সময়সীমা নির্ধারণ করাও উপকারী হতে পারে।
এ ছাড়া ধূমপান ছাড়ার মতো ‘ফোর-ডি’ (Four-D) কৌশলও অনুসরণ করা যেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে-১৫ মিনিট অপেক্ষা করা (Delay), গভীর শ্বাস নেওয়া (Deep Breath), পানি পান করা (Drink Water) এবং হাঁটা, বই পড়া বা অন্য কোনো কাজে মনোযোগ দেওয়া (Distract)।
বিশেষজ্ঞরা আরও পরামর্শ দেন, বন্ধুদের জানিয়ে রাখা যেতে পারে যেন তারা এ বিষয়ে উসকানি না দেন বা নিজের ফোন ব্যবহার করতে না দেন। আর ভুলবশত এক-আধবার প্রোফাইল দেখে ফেললেও হতাশ হওয়ার কিছু নেই। কারণ এই অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসার পথ সবসময় সরলরেখার মতো হয় না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাক্তনের কোনো ছবি বা পোস্ট দেখার পর যদি হিংসা, রাগ বা অস্বস্তি তৈরি হয়, তবে সেটি ইঙ্গিত দেয় যে এখনও মানসিক দূরত্ব তৈরি করা প্রয়োজন। সোশ্যাল মিডিয়ার সাজানো জীবনে প্রকৃত শান্তি খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয় বলেও তারা মন্তব্য করেন।
সূত্র: কসমোপলিটন।