
জীবনের সুখ-দুঃখ, সাফল্য-ব্যর্থতা কিংবা কঠিন সময়ে যে মানুষগুলো নিঃস্বার্থভাবে পাশে থাকেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি বিশেষ উপলক্ষ ন্যাশনাল গার্লফ্রেন্ডস ডে। প্রতি বছর ১ আগস্ট উদযাপিত এই দিনটি নারীদের পারস্পরিক বন্ধুত্ব, ভালোবাসা ও সহযোগিতার বন্ধনকে সম্মান জানায়।
এখানে ‘গার্লফ্রেন্ড’ বলতে শুধু প্রেমের সম্পর্ক বোঝানো হয় না। বরং সেই সব নারী বন্ধুদের বোঝানো হয়, যারা জীবনের নানা অধ্যায়ে সাহস, মানসিক শক্তি এবং আনন্দের উৎস হয়ে ওঠেন।
বর্তমান ব্যস্ত জীবনে কাজ, পরিবার ও নানা দায়িত্বের ভিড়ে বন্ধুত্বের জন্য আলাদা সময় বের করা অনেকের কাছেই কঠিন হয়ে পড়েছে। হারিয়ে যায় পুরোনো আড্ডা, দীর্ঘ ফোনালাপ কিংবা একসঙ্গে কাটানো নির্ভেজাল মুহূর্ত।
ন্যাশনাল গার্লফ্রেন্ডস ডে সেই সম্পর্কগুলোকে নতুন করে স্মরণ করার সুযোগ এনে দেয়। এই দিনে অনেকেই প্রিয় বন্ধুদের জানান-“তুমি আমার জীবনে গুরুত্বপূর্ণ।”
বিশ্বজুড়ে নানা আয়োজনে দিনটি পালন করা হয়। কেউ বন্ধুদের সঙ্গে সিনেমা দেখেন, কেউ পুরোনো ছবি দেখে স্মৃতিচারণ করেন। আবার কেউ ঘরোয়া আড্ডা, পছন্দের খাবার বা প্রিয় রেস্তোরাঁয় একসঙ্গে সময় কাটিয়ে বন্ধুত্ব উদযাপন করেন।
অনেকে একসঙ্গে রান্না করেন বা ঘরেই ছোট্ট ‘ডিআইওয়াই স্পা ডে’র আয়োজন করেন। ফেস মাস্ক, ম্যানিকিউর-পেডিকিউর এবং গল্প-আড্ডায় কাটে বিশেষ এই দিন।
ন্যাশনাল গার্লফ্রেন্ডস ডে উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দেখা যায় উৎসবের আমেজ। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে বন্ধুদের সঙ্গে তোলা ছবি, পুরোনো স্মৃতি এবং আবেগঘন বার্তায় ভরে ওঠে টাইমলাইন।
অনেকে বন্ধুদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, আবার কেউ মজার স্মৃতি শেয়ার করে জানান-বন্ধুত্ব মানেই শুধু গুরুতর আলোচনা নয়, বরং একসঙ্গে অসংখ্য আনন্দের মুহূর্ত তৈরি করা।
ন্যাশনাল গার্লফ্রেন্ডস ডে-এর সূচনা নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। একদল মনে করেন, ২০০৪ সালে মিস্ট্রেস সুসান তার বন্ধুদের সম্মানে দিনটি চালু করেন। অন্যদিকে, কেউ এর কৃতিত্ব দেন অ্যালি সাভারিনো ক্লাইন ও স্যালি রজার্সকে, যারা ২০০৬ সালে একটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে দিনটি জনপ্রিয় করার দাবি করেন।
যদিও দিনটির সূচনা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, তবুও নারীদের বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক সমর্থনের গুরুত্ব তুলে ধরার ক্ষেত্রে এর জনপ্রিয়তা প্রতি বছরই বাড়ছে।
ন্যাশনাল গার্লফ্রেন্ডস ডে মনে করিয়ে দেয়, সত্যিকারের বন্ধু শুধু আনন্দের সঙ্গী নন; বরং দুঃসময়ে সাহস জোগানো, ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং নতুন করে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণাও দেন।
তাই এই দিনে বড় আয়োজনের চেয়ে একটি আন্তরিক ফোনকল, একটি ছোট্ট বার্তা বা পুরোনো বন্ধুকে বলা-“তুমি পাশে আছো, এটাই অনেক”-হয়তো সবচেয়ে মূল্যবান উপহার।