জাপানিদের শত বছর বেঁচে থাকার রহস্য

দীর্ঘ জীবন পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা সবারই রয়েছে। জীবনকে দীর্ঘ করার ক্ষেত্রে ভালো উপায়ে জীবন যাপন সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এর প্রমাণ জাপানের অধিবাসীরা। এই দ্বীপ রাষ্ট্রটির প্রায় ২৩ লাখ মানুষ ৯০ বছর বা তারও বেশি বয়স পর্যন্ত বেঁচে রয়েছেন। আশ্চর্যজনক হলেও সত্য, এই দেশের প্রায় ৭১ হাজার মানুষ প্রায় ১০০ বছর বেঁচে রয়েছেন। কিন্তু এই মানুষগুলোর এতদিন বেঁচে থাকার রহস্য কী! আসুন সেই রহস্য উন্মোচন করা যাক-
সাধারণ খাদ্যাভ্যাস
জাপানের অধিবাসীদের খাদ্যাভ্যাস উল্লেখযোগ্য কিছু নয়। বরং সাধারণ খাবারদাবারই তারা খেয়ে থাকেন। তারা সুষম ডায়েট মেনে খাবার খান। তাদের খাদ্য তালিকায় রয়েছে সামুদ্রিক খাবার, সয়াবিন, ফার্মেন্টেড খাবার, মাছ ইত্যাদি। এখানকার মানুষজন মাংস, চিনি, আলু এবং দুগ্ধজাত খাবার কম খান।
খাওয়ায় নিয়ন্ত্রণ
জাপানের মানুষ খাবারের ব্যাপারে খুবই সংযমী, সুস্বাদু খাবার পেলেই গোগ্রাসে খেতে থাকেন না। তারা জিভের থেকেও বেশি গুরুত্ব দেন সুস্বাস্থ্যকে। তাদের খাবারের প্লেটও থাকে ছোট। এই দেশের লোকজন খাবার প্রয়োজনের অতিরিক্ত খান না।
চায়ের প্রতি ভালোবাসা
দেশটির মানুষ চা পান করতে খুবই ভালোবাসেন। তবে শুধু স্বাদের জন্য তারা চা পান করেন না। তারা জানেন, চায়ের মধ্যে রয়েছে ভালো পরিমাণ অন্টি-অক্সিডেন্ট। এই উপকারী উপাদানটি তাদের জীবনযাত্রার মান বাড়ায়, স্বাস্থ্য থাকে রাখে।
ব্রেকফাস্ট
এই দেশের মানুষ সকালের খাবারের ব্যাপারে খুব সচেতন। তাদের ব্রেকফাস্টে থাকে ভাত, সবজির সালাদ, সিদ্ধ মাছ ইত্যাদি। এই খাবারগুলো তাদের পেট ভালো রাখতেও সাহায্য করে।
পরিমিত খাদ্যাভ্যাস
জাপানিরা নিজের খাবারের প্লেট নিয়ে খুব সংযত। হাতের সামনে খাবার রয়েছে বলেই তা খেয়ে নেন না। তারা জানেন, শরীরের যতটা প্রয়োজন ঠিক ততটা খেতে পারলেই সুস্থ থাকা সম্ভব। অতিরিক্ত খেলে বা কম খেলে সমস্যা আরও বাড়বে।
মিষ্টি এড়িয়ে চলেন
খাওয়ার পর মিষ্টি খাওয়ার অভ্যাস আমাদের অনেকেরই রয়েছে। তবে জাপানের লোকেরা এই বিষয়টি সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলেন। তারা জানেন, খাবার পর মিষ্টি খাওয়ার অর্থ হলো বেশি ক্যালরি গ্রহণ করা। তাই তারা খাবার পর মিষ্টি খান না।
রান্নার পদ্ধতিও ভিন্ন
আমাদের মতো তেল-মশলায় মাখামাখি করে রান্না করেন না তারা। জাপানিরা সিদ্ধ খাবার খেতেই বেশি পছন্দ করেন। এই ধরনের খাবার শরীর সহজেই হজম করতে পারে। ফলে পুষ্টির কোনও ঘাটতি তাদের মধ্যে থাকে না।
সয়াবিন
এই বিশেষ খাবারে থাকে ভালো পরিমাণে প্রোটিন ও কার্বোহাইড্রেট। তাই সয়াবিন থেকে তৈরি হওয়া নানান খাবার যেমন সয়াবিনের দুধ, টোফু ইত্যাদি খেতে জাপানির খুব ভালোবাসেন।



