
বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, বর্তমান তথ্য অনুযায়ী এ ভাইরাসের জাতীয়, আঞ্চলিক কিংবা বৈশ্বিক পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি এখনো কম।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে ডব্লিউএইচও জানায়, রাজশাহী বিভাগের নওগাঁ জেলায় বসবাসকারী ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সী এক নারী নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
অসুস্থতা ও শনাক্তের সময়ক্রম
ডব্লিউএইচও জানায়, ওই নারী ২১ জানুয়ারি জ্বর ও স্নায়বিক উপসর্গে আক্রান্ত হন। পরে ২৮ জানুয়ারি তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে তার গলার সোয়াব ও রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয় এবং পরদিন পরীক্ষাগারে নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণ নিশ্চিত হয়।
আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিধিমালা (আইএইচআর) অনুযায়ী ৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ন্যাশনাল ফোকাল পয়েন্ট বিষয়টি ডব্লিউএইচওকে অবহিত করে।
সংক্রমণের উৎস ও সংস্পর্শকারীদের অবস্থা
ডব্লিউএইচও জানায়, আক্রান্ত ওই নারীর কোনো সাম্প্রতিক ভ্রমণের ইতিহাস পাওয়া যায়নি। তবে অসুস্থ হওয়ার আগে তিনি কাঁচা খেজুরের রস পান করেছিলেন।
এ ঘটনার পর রোগীর সংস্পর্শে আসা আরো ৩৫ জনকে পরীক্ষা করা হলেও এখন পর্যন্ত নতুন কোনো সংক্রমণ শনাক্ত হয়নি।
বাংলাদেশে নিপাহ পরিস্থিতি
ডব্লিউএইচওর তথ্যমতে, ২০০১ সাল থেকে বাংলাদেশে মোট ৩৪৮টি নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক রোগীর ক্ষেত্রেই কাঁচা খেজুরের রস পানের ইতিহাস পাওয়া গেছে।
সংস্থাটি জানায়, সাধারণত প্রতি বছর ডিসেম্বর থেকে এপ্রিলের মধ্যে নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়, যা খেজুরের রস সংগ্রহ ও পান করার মৌসুমের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
প্রতিবেশী দেশে সংক্রমণ, তবু ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা নয়
ডব্লিউএইচও জানায়, এক সপ্তাহ আগে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নিপাহ ভাইরাসের দুটি সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। ওই ঘটনার পর চীন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশে উদ্বেগ বেড়েছে এবং কিছু দেশে বিমানবন্দরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা জোরদার করা হয়েছে।
তবে ডব্লিউএইচও স্পষ্ট করে জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো ধরনের ভ্রমণ বা বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ করছে না সংস্থাটি।
ঝুঁকি মূল্যায়ন ও চিকিৎসা পরিস্থিতি
ডব্লিউএইচওর মূল্যায়নে বলা হয়েছে, নিপাহ ভাইরাসজনিত সামগ্রিক জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি জাতীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সব স্তরেই কম। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রোগ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনাও নিম্নমাত্রার।
বর্তমানে নিপাহ ভাইরাসের জন্য কোনো অনুমোদিত ওষুধ বা টিকা নেই। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুহার ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।
ডব্লিউএইচও মহাপরিচালকের মন্তব্য
গত সপ্তাহে ডব্লিউএইচও মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস নিপাহকে
“বিরল কিন্তু গুরুতর রোগ”
হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় রোগ নজরদারি, পরীক্ষার কার্যক্রম এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: বণিক বার্তা



