জাতীয়
প্রধান খবর

অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩ অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি সংসদে হুবহু উত্থাপন

অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে সংসদীয় বিশেষ কমিটি। জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সপ্তম দিনে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সংসদে এ প্রতিবেদন উত্থাপন করেন কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে গণভোট, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, বিচারক নিয়োগ এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সংক্রান্তসহ মোট ২০টি অধ্যাদেশকে এখনই আইনে রূপ না দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

এর মধ্যে চারটি অধ্যাদেশ রহিত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এবং ১৬টি অধ্যাদেশকে পরবর্তীতে অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে শক্তিশালী নতুন বিল আনার সুপারিশ করা হয়েছে।

যে চারটি অধ্যাদেশ রহিত করার সুপারিশ করা হয়েছে সেগুলো হলো- জাতীয় সংসদ সচিবালয় (অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ বিধান) অধ্যাদেশ, ২০২৪; সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, ২০২৫; সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫ এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬।

অপরদিকে যেসব ১৬টি অধ্যাদেশ এখনই বিল আকারে না তোলার সুপারিশ করা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- গণভোট অধ্যাদেশ-২০২৫, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ-২০২৫, রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ-২০২৫, রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, কাস্টমস (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, আয়কর (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ-২০২৫, দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫সহ আরও কয়েকটি।

এই ১৬টি অধ্যাদেশের মধ্যে মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (দ্বিতীয় সংশোধন), কাস্টমস (সংশোধন), আয়কর (সংশোধন), বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) এবং বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) সংশোধন অধ্যাদেশ ছাড়া বাকি অধ্যাদেশগুলোতে বিরোধী দল নোট অব ডিসেন্ট বা আপত্তি জানিয়েছে।

এদিকে ৯৮টি অধ্যাদেশে কোনো পরিবর্তন না এনে হুবহু এবং ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধন করে বিল আকারে সংসদে তোলার সুপারিশ করেছে বিশেষ কমিটি। তবে কোথায় কী সংশোধনী আনা হবে, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

সংশোধন করে বিল আকারে তোলার সুপারিশ করা ১৫টি অধ্যাদেশের মধ্যে রয়েছে- নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ, সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ, কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর (সেকেন্ড অ্যামেন্ডমেন্ট), জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) অধ্যাদেশ, মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন অধ্যাদেশ, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশ, ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা (সংশোধন) অধ্যাদেশ এবং বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ।

উল্লেখ্য, সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ পুনরায় বসার পর ৩০ দিনের মধ্যে কোনো অধ্যাদেশ আইন হিসেবে অনুমোদিত না হলে তা ‘ল্যাপস’ হয়ে যায়। সে অনুযায়ী আগামী ১২ এপ্রিলের মধ্যে সংসদের অনুমোদন না পেলে এসব অধ্যাদেশের কার্যকারিতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।

সূত্র: যমুনা নিউজ

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button