
জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট। আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই বাজেট ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় প্রায় ১৯ শতাংশ বড়।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সংসদ অধিবেশনে নির্দিষ্টকরণ বিল, ২০২৬ পাসের মাধ্যমে নতুন অর্থবছরের বাজেটের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। এর আগে সোমবার ৬৪টি সংশোধনীসহ অর্থবিল, ২০২৬ সংসদে পাস হয়।
গত ১১ জুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। এবারের বাজেটের প্রতিপাদ্য ছিল ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’।
উন্নয়ন ও পরিচালন ব্যয়
নতুন বাজেটে উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা, যা বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ৪৭ শতাংশ বেশি।
খাদ্য হিসাব, ঋণ ও অগ্রিম, অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ এবং কাঠামোগত সমন্বয় বাদে পরিচালন ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৫ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা, যা আগের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ৬ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি।
এর মধ্যে সরকারের দেশি-বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় হবে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৮৯ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা।
রাজস্ব ও বাজেট ঘাটতি
২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারের রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, যা বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত রাজস্ব আয়ের তুলনায় ১৮ শতাংশ বেশি। পাশাপাশি বিদেশি অনুদান থেকে ৬ হাজার ১৫০ কোটি টাকা পাওয়ার আশা করছে সরকার।
নতুন বাজেটে মোট ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এই ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা এবং বিদেশি উৎস থেকে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট আগামীকাল ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।
তথ্যসূত্র: যমুনা টিভি
