
কয়েকদিনের জল্পনা-কল্পনার পর বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদে পৌঁছে দেওয়া পদত্যাগপত্রে মো. সাহাবুদ্দিন জানান, গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার কারণে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না।
সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি স্পিকারের কাছে লিখিতভাবে পদত্যাগ করতে পারেন। আর ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

পদত্যাগপত্রে কী লিখেছেন
পদত্যাগপত্রে মো. সাহাবুদ্দিন উল্লেখ করেন, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনি জটিলতাসহ বিভিন্ন রোগে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ভুগছেন। হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারির পাশাপাশি সম্প্রতি তার শরীরে অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি ধরা পড়েছে, যার কারণে তিনি মাঝে মাঝে সাময়িকভাবে অচেতন হয়ে পড়েন।
তিনি লেখেন, এসব শারীরিক জটিলতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না এবং তার দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন।
পদত্যাগপত্রে তিনি আরও দাবি করেন, দায়িত্ব পালনকালে সংবিধানের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য, নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন সরকারের পতনের পর সৃষ্ট সাংবিধানিক সংকট মোকাবিলায় সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের আওতায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত চেয়ে পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের বিষয়টিও তিনি পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করা হয়েছে এবং বর্তমানে নির্বাচিত সরকার ও বিরোধী দল সংসদে দায়িত্ব পালন করছে। তার মতে, নিজের ইতিবাচক ভূমিকার কারণেই দেশে কোনো সাংবিধানিক বিপর্যয় ঘটেনি।

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে স্পিকারের দায়িত্ব
জাতীয় সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানান, বিকেল ৫টা ১ মিনিটে তিনি রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন। পরে সংবিধান অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন তিনি।
তিনি বলেন, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন এবং এ বিষয়ে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান জানান।
স্পিকার আরও বলেন, রাষ্ট্রপতির অসুস্থতা একটি মানবিক বিষয় এবং সংবিধান অনুযায়ী সব প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই দায়িত্ব হস্তান্তর হয়েছে।
আগামী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করবে।
পটভূমি
২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। তার মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল।
তবে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই তাকে অপসারণ বা পদত্যাগ নিয়ে নানা আলোচনা চলছিল। সাম্প্রতিক সময়ে তার পদত্যাগের গুঞ্জন আরও জোরালো হয়। অবশেষে স্বাস্থ্যগত কারণ উল্লেখ করে তিনি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ান।
তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা
