
জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা যথাযথভাবে কার্যকর না করার অভিযোগে বাংলাদেশ, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ ৬০টি বাণিজ্য অংশীদারের পণ্যে নতুন শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন এ শুল্ক আজ শুক্রবার (২৪ জুলাই) থেকে কার্যকর হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত এক নোটিশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। নতুন শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া প্রায় ৯৯ দশমিক ৪ শতাংশ পণ্যের ওপর প্রযোজ্য হবে। তবে তেল, গ্যাস, সার এবং কিছু খাদ্যপণ্য এ শুল্কের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর লক্ষ্যে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতীয় জরুরি আইনের আওতায় বিভিন্ন দেশের পণ্যে ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ‘পারস্পরিক’ শুল্ক আরোপ করেছিলেন। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট সেই শুল্ক বাতিল করে দেয়। এরপর ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ৩০১-এর আওতায় নতুন করে এই শুল্ক আরোপ করা হলো।
ফেডারেল রেজিস্টারের ঘোষণায় বলা হয়েছে, নতুন শুল্ক কার্যকর হওয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া অধিকাংশ পণ্যের ওপর ন্যূনতম শুল্ক বহাল থাকবে। আইনি দৃষ্টিকোণ থেকেও এ পদক্ষেপ তুলনামূলকভাবে বেশি টেকসই বলে মনে করা হচ্ছে।
ফেব্রুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ট্রাম্প প্রশাসন ১৫০ দিনের জন্য অস্থায়ীভাবে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল, যার মেয়াদ শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ১২টা ১ মিনিটে শেষ হয়েছে। নতুন শুল্ক একই সময় থেকে কার্যকর হয়েছে। তবে ইতোমধ্যে পরিবহন পথে থাকা পণ্য ২৮ জুলাই স্থানীয় সময় রাত ১২টা ১ মিনিট পর্যন্ত নতুন শুল্ক থেকে অব্যাহতি পাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, প্রায় এক শতাব্দী ধরে যুক্তরাষ্ট্রে জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এবং তা কঠোরভাবে কার্যকর করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এ পদক্ষেপ মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বাণিজ্য বিকৃতিকারী চর্চা মোকাবিলায় সহায়ক হবে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশ, ভারত, আর্জেন্টিনা, যুক্তরাজ্য, কম্বোডিয়া, কানাডা, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, তাইওয়ান, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সুইজারল্যান্ডের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সর্বাধিক সুবিধাপ্রাপ্ত দেশের (MFN) শুল্কহারের সঙ্গে নতুন হার যোগ করে মোট শুল্ক ১০ অথবা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া আরও ৩৮টি দেশের পণ্যে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এসব দেশের মধ্যে চীনও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, চীনে উইঘুর সংখ্যালঘুদের জোরপূর্বক শ্রমে নিয়োজিত রাখা হয়। যদিও বেইজিং এ অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের নভেম্বরে চীনের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্য সমঝোতায় নির্ধারিত ২০ শতাংশ শুল্কহার পুনর্বহালের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এ হার ২০ শতাংশের বেশি হবে না।
তথ্যসূত্র: টিবিএস

