জাতীয়প্রধান খবর

হঠাৎ করে বেড়েছে ডায়রিয়ার প্রকোপ, হাসপাতাল রোগীতে পরিপূর্ণ

প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন। প্রতিদিনেই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসার জন্য মহাখালীর আন্তর্জাতিক উদরময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশ (আইসিডিআরবি) ছুটে আসছেন। তবে এই হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলো রোগীতে পরিপূর্ণ হওয়ায় দুটি বড় তাবু টানিয়ে সেবা দেওয়া হচ্ছে। তাতে করেও জায়গা সংকুলান হচ্ছে না। চাপ সামাল দিতে চিকিৎসক-নার্সদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। এছাড়া রাজধানীর কয়েকটি এলাকা থেকেই ঘুরেফিরে বেশি ডায়রিয়া রোগী আসছে বলেও আইসিডিডিআরবি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

জানা গেছে, গত ১৬ মার্চ ১ হাজার ৫৭ জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হন। পরদিন তা বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ১৪১ জনে। ২০ মার্চ রোগীর সংখ্যা হয় ১ হাজার ১৫৭, ২১ মার্চ ১ হাজার ২১৬, ২২ মার্চ ১ হাজার ২৭২ ও ২৩ মার্চ ১ হাজার ২৩৩ জন। ২৪ মার্চ ১ হাজার ১৭৬ জন এবং ২৫ মার্চ ১ হাজার ১৩৮ জন, মার্চ ১ হাজার ২৪৫ জন এবং সর্বশেষ রোববার দপুর ১২টা পর্যন্ত ৫৩৯ জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হয়েছেন।

আইসিডিডিআরবি হাসপাতাল শাখার প্রধান ডা. বাহারুল আলম বলেন, এখানে আসা কোনো রোগীকেই ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে না। তারা শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করছেন। হাসপাতালের রিসার্চ ফিজিশিয়ানদের অনেকে সেবা দিচ্ছেন। জায়গা সংকুলান না হওয়া বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। চাপ আরও বাড়লে প্রয়োজনে তাদের অফিস কক্ষগুলো ছেড়ে দেওয়া হবে। তবে কেউ ডায়রিয়া আক্রান্ত হলে নিকটস্থ কেন্দ্রে গেলে এখানে চাপ কমবে। এ ছাড়া রোগীর সঙ্গে এটেনডেন্সদের অযথা ভিড় না করতে অনুরোধ করা হচ্ছে। কারণ, বেশি জনসমাগমে রোগীদের সেবা ব্যবস্থাপনায় সমস্যা হয়।

আইসিডিডিআরবি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাজধানীর কয়েকটি এলাকা থেকেই ঘুরেফিরে বেশি ডায়রিয়া রোগী আসছে। এর মধ্যে সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, কদমতলী, শনিরআখড়া, মিরপুর, বাড্ডা, মোহাম্মদপুর, উত্তরখান, উত্তরা ও কামরাঙ্গীরচর এলাকার থেকে আসা রোগীর সংখ্যাই বেশি।

এদিকে ডায়রিয়া থেকে বাঁচতে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

রোববার (২৭ মার্চ) দুপুরে দেশের ডায়রিয়া পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের সংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণ শাখার লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল ইসলাম তার বক্তব্যে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ডায়রিয়া রোগের প্রকোপ বাড়ার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। প্রতিদিনকার কাজকর্মে বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার করলে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে এবং সব সময় সুপেয় পানি পান করলে ডায়রিয়া রোগ থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলোতে খাবার স্যালাইন, আইভি ফ্লুইড স্যালাইন, পানি বিশুদ্ধিকরণ ট্যাবলেট এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণের সরবরাহ রয়েছে। অল্প ডায়রিয়া থাকতেই চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে। সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এ রোগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button