
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, ডিজাইন, প্রশিক্ষণ ও পাইলটিং কার্যক্রম শেষে ২০২৮ সালে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন কারিকুলাম চালু করা হবে।
রোববার (১৭ মে) দুপুরে ময়মনসিংহে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি আয়োজিত ‘প্রাথমিক স্তরের ভাষা দক্ষতা উন্নয়ন পাইলটিং কার্যক্রমের বেইজলাইন রিপোর্ট শেয়ারিং’ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী এক বছরের মধ্যে নতুন কারিকুলামের ডিজাইন সম্পন্ন করা হবে। এরপর ২০২৭ ও ২০২৮ সালে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
তিনি বলেন, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থাকে কার্যকর করতে হলে সবার আগে কারিকুলাম সঠিকভাবে ডিজাইন করতে হবে। প্রাথমিক শিক্ষায় ‘আর্লি লার্নিং’ বা শিশুদের প্রাথমিক বয়সের শেখার বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ভাষা শিক্ষা ও মৌলিক গণিত দক্ষতা অর্জনই প্রাথমিক শিক্ষার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
ববি হাজ্জাজ বলেন, “শুনে বোঝা, বলে বোঝানো, পড়ে বোঝা এবং লিখে বোঝানো-এই চারটি ভাষাগত দক্ষতার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের ধাপে ধাপে শেখাতে হবে।”
বর্তমান পাঠ্যবইয়ের আকার ও উপস্থাপনাও শিশুদের জন্য উপযোগী নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি ছয় বছরের শিশুর হাতে বড় আকারের বই তুলে দিলে তার শেখার আগ্রহ কমে যায়। তাই ছোট ছোট অধ্যায়ভিত্তিক বই এবং আনন্দমুখর শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, নতুন কারিকুলামে ভাষা শিক্ষা, গণিত, সিভিক এডুকেশন, খেলাধুলা ও সংস্কৃতি চর্চাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। এসব বিষয়ও ভাষা শিক্ষার মাধ্যমে শেখানো সম্ভব বলে উল্লেখ করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী জানান, নতুন কারিকুলামের আলোকে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, পাঠ্যবই প্রণয়ন এবং বিদ্যালয়ের অবকাঠামোও পুনর্বিন্যাস করা হবে। ভবিষ্যতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিবেশ শিশুদের শেখার উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে।
তিনি বলেন, “এখন থেকে প্রাথমিক শিক্ষার প্রতিটি কাজের একমাত্র মাপকাঠি হবে লার্নিং আউটকাম।”
সভায় সভাপতিত্ব করেন ফরিদ আহমদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শাহীনা ফেরদৌসী এবং দেবব্রত চক্রবর্তী।
এ সময় নেপের কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক ও বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তথ্যসূত্র: যুগান্তর

