
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসিব আজিজ নির্দেশ দিয়েছেন, পুলিশের সামনে কেউ অস্ত্র বের করলে তাৎক্ষণিকভাবে আত্মরক্ষার্থে গুলি চালাতে হবে। মঙ্গলবার রাতে ওয়্যারলেস বার্তায় সিএমপির সব পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের এ নির্দেশ দেন তিনি। বিষয়টি বুধবার (১৩ আগস্ট) রাতে একাধিক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।
নির্দেশনায় বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগের প্রাধিকার অনুযায়ী অস্ত্র ও তাজা বুলেট সঙ্গে নিয়ে ডিউটিতে যেতে হবে। থানার মোবাইল, পেট্রোল, ডিবি বা চেকপোস্টে দায়িত্ব পালনরত কোনো দল আগ্নেয়াস্ত্র ছাড়া মাঠে নামবে না। কমিশনার বলেন, “শুধু রাবার বুলেট দিয়ে কাজ হচ্ছে না। বন্দর থানার এসআই গুরুতর আহত হয়েছেন। ওই পরিস্থিতি যে কেউ পড়লে, প্রজেক্টাইল লাশ ছাড়া কেউ ফিরবে না।”
তিনি আরও জানান, পুলিশের কোনো টহল দলের সামনে কেউ অস্ত্র—হোক তা আগ্নেয়াস্ত্র বা ধারালো—বের করলেই গুলি চালানো হবে। দণ্ডবিধির ৯৬ থেকে ১০৬ ধারার অধীনে আত্মরক্ষার জন্য আক্রমণ হওয়ার আগেই, অস্ত্র বের করার মুহূর্তে গুলি চালানোর অধিকার আছে। কমিশনারের ভাষায়, “হয় মাথায়, নয়তো বুকে, নয়তো পিঠে—সরকারি গুলির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।”
সোমবার রাতে নগরীর ঈশান মিস্ত্রি হাট এলাকায় আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলে ধাওয়া দিতে গিয়ে হামলার শিকার হন বন্দর থানার এসআই আবু সাঈদ রানা। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলে থাকা দুই কনস্টেবল শটগান বহন করলেও তা ব্যবহার করেননি। অনেক পুলিশ সদস্য আক্রমণের পরও গুলি চালাতে দ্বিধা করেন, কারণ এতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটলে তাদের আইনি জটিলতায় পড়তে হয়।
এ বিষয়ে সিএমপি কমিশনার বলেন, “তারা আমার কর্মকর্তার মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে পারত। আল্লাহ তাকে বাঁচিয়েছেন। আমার বাহিনী আত্মরক্ষায় যা যা দরকার, করবে। কেউ বসে থেকে আক্রান্ত হবে না।”



