
গণঅভ্যুত্থানের পর ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দাবি করেছেন, আগামী ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করার পরিকল্পনা রয়েছে তার। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে অবস্থান করছেন শেখ হাসিনা। বর্তমানে দেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রথমবারের মতো সরাসরি সাক্ষাৎকারে দেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
প্রায় এক ঘণ্টার টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনা বলেন, তিনি ও দলের নেতারা স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে চান এবং আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে প্রস্তুত।
তার ভাষায়, “দেশে ফেরার পর আমাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে, এমনকি হত্যা করা হলেও আমাকে ফিরতেই হবে। যদি মৃত্যুও আসে, আমি চাই সেটা আমার নিজের মাটিতেই হোক।”
তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর দমন-পীড়ন চলছে এবং তাদের বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা দেওয়া হয়েছে। তাই দলের নেতাদের একসঙ্গে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
তবে দেশে ফেরার নির্দিষ্ট তারিখ কিংবা কোন আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন-এ বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি সাবেক প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, তিনি বিচার ব্যবস্থার ওপর আস্থা রাখেন এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণ নিজেরাই মূল্যায়ন করতে পারবেন বলে বিশ্বাস করেন।
দেশে ফেরার পরিকল্পনা নিয়ে বাংলাদেশ সরকার বা অন্য কোনো বিদেশি সরকারের সঙ্গে কোনো গোপন আলোচনা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
রয়টার্স জানায়, শেখ হাসিনার এ বক্তব্যের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট মুখপাত্রদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে এর আগে ভারত জানিয়েছিল, বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ অনুরোধ তারা পর্যালোচনা করছে।
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা কোনো সরকারেরই ভুলত্রুটি থাকতে পারে। তবে একটি সরকারের ভালো-মন্দের বিচার করার অধিকার জনগণেরই রয়েছে।
তিনি আরও জানান, আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ১২৫টি আসনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে অনলাইনে বৈঠক করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা দেশ ছাড়েন। পরবর্তীতে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তবে তিনি বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
তথ্যসূত্র: টিবিএস