
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যেই ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন সম্পন্ন হয়েছে। সাত দিনব্যাপী শেষকৃত্য শেষে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিজ শহর মাশহাদে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে সমাহিত করা হয়। একই সঙ্গে তার পরিবারের নিহত চার সদস্যকেও দাফন করা হয়েছে।

দাফন অনুষ্ঠান চলাকালেও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত ছিল। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, বৃহস্পতিবার ইরানের ৯০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। আগের দিনও ৮০টি স্থাপনায় হামলার কথা জানিয়েছিল ওয়াশিংটন। ইরানের দাবি, গত দুই দিনের হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত ও ৭৮ জন আহত হয়েছেন।
ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আশপাশের কয়েকটি এলাকাতেও হামলা হয়েছে। তবে এসব হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
জবাবে কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে ইরান। পাশাপাশি জর্ডান ও ইরাকের কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতেও হামলার কথা জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
মাশহাদে খামেনির দাফন উপলক্ষে হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। অনেকের হাতে ইরানের পতাকার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পবিরোধী প্ল্যাকার্ডও দেখা যায়।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় তেহরান-মাশহাদ সংযোগকারী একটি সেতু ও রেলপথ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা সর্বশেষ মার্কিন হামলাকে ‘গুরুতর যুদ্ধাপরাধ’ আখ্যা দিয়ে নিন্দা জানিয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের একজন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা বিবিসিকে জানিয়েছেন, গত কয়েক ঘণ্টায় ইরানের ভেতরে নতুন কোনো মার্কিন হামলা চালানো হয়নি।
দক্ষিণ ইরানের কোনারাক এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। একই সময়ে বন্দর আব্বাস, সিরিক, জাস্ক ও আবু মুসা দ্বীপেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর দিয়েছে ইরানি গণমাধ্যম। চাবাহারে বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং বুশেহরে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর একটি ব্যারাকে আগুন লাগার ঘটনাও জানানো হয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তাদের সর্বশেষ অভিযানের লক্ষ্য ছিল ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় সামরিক অবকাঠামো এবং বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর সক্ষমতা দুর্বল করা।
এদিকে চলমান সংঘাতের প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক নৌবাণিজ্যেও। স্বাধীন ট্যাংকার মালিকদের আন্তর্জাতিক সংগঠন ইন্টারট্যাঙ্কোর মেরিন পরিচালক ফিল বেলচার জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৩০টি জাহাজ চলাচল করছে, যেখানে এক সপ্তাহ আগে এ সংখ্যা ছিল প্রায় ৭০টি এবং বছরের শুরুতে ছিল প্রায় ১৩০টি।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, গত মাসে ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ হয়ে গেছে এবং ভবিষ্যতে নতুন আলোচনা ‘সময়ের অপচয়’ হবে। এর জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, “আমরা কথায় নয়, কাজে জবাব দেব।”

উল্লেখ্য, গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ১৪ দফা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এতে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌচলাচল এবং ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই দুই দেশের মধ্যে নতুন করে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা
