
রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান অলি আহমদকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট।
রোববার দুপুরে ঢাকায় ১১ দলীয় জোটের নেতাদের আনুষ্ঠানিক বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান জোটের শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
অলি আহমদ ১১ দলীয় জোটের শরিক দল এলডিপির চেয়ারম্যান। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জোটের পক্ষ থেকে তাকেই প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
তফসিল অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থীদের আগামী ১৩ আগস্টের মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে ১৬ আগস্ট এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ আগস্ট।
ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২০ আগস্ট।
সাবেক সামরিক কর্মকর্তা অলি আহমদ একজন মুক্তিযোদ্ধা। তিনি ১৯৯১ সালে গঠিত বিএনপি সরকারের মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার পর ২০০৬ সালে দলটি থেকে বেরিয়ে আসেন অলি আহমদ। একই বছর তিনি লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) নামে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন। বর্তমানে তিনি দলটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন।
গত ২৪ জুলাই মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় দেড় বছর আগেই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন।
তার পদত্যাগের পর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হওয়ার পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের উদ্যোগ নেয় নির্বাচন কমিশন। এরই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়।
এর আগে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তারা কোনো প্রার্থী দেবে না।
তখন দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, প্রার্থী দেওয়া হলেও জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ জাতীয় সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। ফলে বিএনপির সমর্থন ছাড়া রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার কার্যত কোনো সুযোগ নেই।
তবে এবার জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট অলি আহমদকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা

