
পবিত্র রমজান-এর ২১তম দিন থেকে শুরু হয়েছে শেষ দশক, যা মুসলিম উম্মাহর জন্য অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ও বরকতময় সময়। ইসলাম ধর্মে এ সময়কে ইবাদত, তওবা এবং মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ইসলামি বর্ণনা অনুযায়ী, রমজানের শেষ দশকে আল্লাহ তাআলা অসংখ্য বান্দাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন এবং তাদের গুনাহ ক্ষমা করে দেন। তাই এ সময়ে বেশি বেশি নফল নামাজ আদায়, কুরআন তিলাওয়াত, দোয়া ও তওবা করার প্রতি আলেমরা বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন।
২১ রমজান থেকে শুরু হওয়া এই দশকের মধ্যেই রয়েছে মহিমান্বিত লাইলাতুল কদর বা শবে কদর। পবিত্র আল-কুরআন ও হাদিসে উল্লেখ রয়েছে-এই রাতের ইবাদত হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম।
ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলো-২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯ রমজানে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ সময় অনেক মুসল্লি মসজিদে ইতিকাফ-এ বসেন। সুন্নত অনুযায়ী ইতিকাফকারীরা ২১ রমজানের সূর্যাস্তের আগে মসজিদে প্রবেশ করে ইবাদতে আত্মনিয়োগ করেন। ইতিকাফের মাধ্যমে দুনিয়ার ব্যস্ততা থেকে দূরে থেকে কুরআন তিলাওয়াত, নফল নামাজ, জিকির-আজকার ও দোয়ায় সময় কাটানো হয়।
ইসলামের ইতিহাসে ২১ রমজান আরেকটি কারণে স্মরণীয়। এই দিনটি ইসলামের চতুর্থ খলিফা হযরত আলী (রা.)-এর শাহাদাত দিবস হিসেবে মুসলিম বিশ্বে গভীর শ্রদ্ধা ও শোকের সঙ্গে স্মরণ করা হয়।
হাদিসে বর্ণিত একটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া হলো-
‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নি।’
অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসেন; তাই আমাকে ক্ষমা করে দিন।
ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা তাই ২১ রমজান থেকে শুরু হওয়া শেষ দশকে ইবাদত-বন্দেগিতে অধিক মনোযোগ দিয়ে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের চেষ্টা করেন।



