দিবস
প্রধান খবর

আজ বিশ্ব মা দিবস

মায়ের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের বিশেষ দিন

আজ বিশ্ব মা দিবস। পৃথিবীর নানা প্রান্তে মায়ের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের এই বিশেষ দিনটি পালিত হয় নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আবেগ, স্মৃতি ও ভালোবাসার আবহে উদযাপিত হয় দিনটি।

প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার বিশ্ব মা দিবস পালন করা হয়। ১৯১৪ সালের ৮ মে মার্কিন কংগ্রেস মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে আনুষ্ঠানিকভাবে মা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর থেকেই বিশ্বজুড়ে দিনটি পালনের প্রচলন শুরু হয়।

‘মা’ শব্দটি পৃথিবীর সবচেয়ে মধুর ও পবিত্র উচ্চারণগুলোর একটি। কবির ভাষায়-
“মা কথাটি ছোট্ট অতি কিন্তু যেন ভাই,
ইহার চেয়ে নাম যে মধুর ত্রিভুবনে নাই।”

মাকে ভালোবাসার জন্য নির্দিষ্ট কোনো দিনের প্রয়োজন না থাকলেও, এই বিশেষ দিনে সন্তানরা বাড়তি আবেগে স্মরণ করেন মায়ের ত্যাগ, স্নেহ ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসাকে। কারণ মা ও সন্তানের সম্পর্ক পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর ও অটুট বন্ধনের অন্যতম।

বাংলাদেশেও দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মা-সন্তানের ছবি, স্মৃতি ও ভালোবাসার বার্তায় ভরে উঠেছে টাইমলাইন।

মা দিবসের ইতিহাস বহু পুরোনো। মধ্যযুগে ইউরোপে ‘মাদারিং সানডে’ নামে একটি প্রথা ছিল। সে সময় কর্মসূত্রে দূরে থাকা মানুষ লেন্টের চতুর্থ রোববারে নিজ বাড়ি ও মায়ের কাছে ফিরে আসতেন। ব্রিটেনে দিনটি বিশেষভাবে পরিচিত ছিল ‘মাদারিং সানডে’ নামে।

আধুনিক মা দিবসের সূচনা হয় যুক্তরাষ্ট্রে। আনা জারভিস নামে এক নারী দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে স্বাস্থ্য সচেতন করতে কাজ করেছিলেন। ১৯০৫ সালে তার মৃত্যুর পর তার মেয়ে আনা মারিয়া রিভস জারভিস মায়ের স্মৃতিকে সম্মান জানাতে উদ্যোগ নেন। সেই বছরই তিনি প্রথমবারের মতো মা দিবস পালন করেন।

পরবর্তীতে ১৯০৭ সালে এক বক্তব্যে তিনি মায়ের জন্য আলাদা একটি দিবসের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯১৪ সালে মার্কিন কংগ্রেস মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে মা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। একই বছর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন দিনটিকে সরকারি ছুটি হিসেবে ঘোষণা করেন।

বর্তমানে বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, কানাডা, চীন, রাশিয়া ও জার্মানিসহ শতাধিক দেশে দিবসটি উদযাপিত হয়।

মা দিবসে সন্তানরা মাকে উপহার দেন, একসঙ্গে সময় কাটান এবং বিভিন্নভাবে ভালোবাসা প্রকাশ করেন। বিভিন্ন ফ্যাশন হাউস, উপহার সামগ্রীর দোকান ও রেস্টুরেন্টও এ উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন করে থাকে।

সবকিছুর পরেও এই দিনের মূল তাৎপর্য একটাই-মায়ের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, ত্যাগ ও স্নেহের প্রতি গভীর সম্মান ও কৃতজ্ঞতা জানানো।

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button