দিবস

১লা এপ্রিল কেন বোকা দিবস?

বোকা দিবসের ইতিহাস ঘাঁটতে বসলে দেখা যায়, মোটামুটি ১৭০০ সাল থেকে ১লা এপ্রিলে ইংরেজ কৌতুক শিল্পীরা বাস্তববিক বিষয় নিয়ে নিজেদের মধ্যে চূড়ান্ত মজা করা শুরু করলেন। সেই সময় থেকেই ব্যাপারটা প্রায় বার্ষিক উদযাপনের মাত্রায় পৌঁছতে থাকল। সে না হয় জানা গেল কিন্তু, হঠাত্ এই দিনটাই কেন?

এই ‘কেন’র কোনও সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ উত্তর এখনও মেলেনি। তবে বিশ্ব জুড়ে এপ্রিল ফুল’স ডে-র দিনমাহাত্ম্য নিয়ে বেশ কয়েকটি তত্ত্ব পাওয়া যায়।

১৫৮২ খ্রীষ্টাব্দে জুলিয়ান ক্যালেন্ডার থেকে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার মেনে চলার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ফ্রান্স। দেশে এতকাল চালু থাকা জুলিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, নববর্ষ উদযাপিত হত মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে ১লা এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে। কিন্তু, নতুন গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারে আবার ১লা জানুয়ারি বছরের প্রথম দিন। সারা দেশ জুড়ে এই বিরাট বদলের খবর বেশ কিছু ফরাসি নাগরিকের কাছে পৌঁছেছিল বেশ দেরিতে। এই বদলের কথা জেনেও অনেকে আবার ঠিকঠাক ভাবে বুঝে উঠতে পারছিলেন না গোটা বিষয়টা। আর এই বিভ্রান্তি থেকেই তাঁরা অনেকে নববর্ষ হিসাবে ততদিনে ইতিহাস হয়ে যাওয়া ১লা এপ্রিলে বর্ষ বরণের উদযাপন করে ফেলতেন। আর এই সব ‘বোকা মানুষ’দের নিয়ে রসিকতা করতেই এপ্রিল ফুল’স ডে বা অল ফুল’স ডে-র সূচনা। এমনটাই মনে করেন এক দল ঐতিহাসিক।

আরেকটি তত্ত্ব অনুযায়ী, এপ্রিল ফুল’স ডে-কে প্রাচীন রোমের হিলারিয়া উত্সবের সঙ্গে যোগ করা হয়ে থাকে। ওই উত্সবে সকলে উদ্ভট ছদ্মবেশ ধারণ করতেন। এর ফলে, তুমুল হাস্যরস সঞ্চারিত হত। এই অঞ্চলে আবার অনেকে মনে করতেন, ১লা এপ্রিল হল বসন্তের প্রথম দিন। ‘প্রকৃতি মা’ তাই এই দিন আসন্ন অনিশ্চিত আবহাওয়ার ইঙ্গিত দিতে মানব সন্তানদের বোকা বানাতেন।

এছাড়াও পুরানো পুঁথি ঘাঁটলে হয়ত আরও কিছু কাহিনি উঠে আসবে। কিন্তু, আজকের এই দ্রুত গতির স্মার্ট দুনিয়ায় কেউ সহসা বোকা বনতে চায় না। যদিও, বোকা বনে এবং বানিয়েই দুনিয়া চলছে গড়গড়িয়ে। কিন্তু এই ‘বোকা’ হওয়া বা বানানোর মধ্যে আফশোস, ক্রোধ বা উদ্দেশ্য সাধনের শঠতা রয়েছে। এপ্রিল ফুল বানানো অবশ্যই নিখাদ হাস্যরস পাওয়া ছাড়া কিছুই নয়। তাই, এই চরম এক ঘেঁয়ে জীবনে ১লা এপ্রিল যেন বলে কয়ে আসা ক্ষণিকের ‘কমিক রিলিফ’।

এই বিভাগের অন্য খবর

এছাড়াও দেখুন
Close
Back to top button