সংসদে ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় বিল’ উত্থাপন, তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ

দীর্ঘ ২৫ বছর আইনের গেজেটে সীমাবদ্ধ থাকার পর অবশেষে আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে বগুড়াবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত বিশ্ববিদ্যালয়। শুধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নয়, এবার এটিকে পূর্ণাঙ্গ সাধারণ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জাতীয় সংসদে ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয়।
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন। পরে বিলটি অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, গত ১৮ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় বিল, ২০২৬’-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০০১ সালের ১৫ জুলাই ‘বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০১’ গেজেট আকারে প্রকাশিত হলেও পরবর্তী দুই দশকেরও বেশি সময় আইনটি বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম আর শুরু করা সম্ভব হয়নি।
বর্তমান বাস্তবতায় সরকার বিশ্ববিদ্যালয়টিকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে সীমাবদ্ধ না রেখে বিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, প্রকৌশল, কারিগরি, কলা, সামাজিক বিজ্ঞান, ব্যবসায় প্রশাসন, আইন, কৃষি এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ রেখে একটি পূর্ণাঙ্গ সাধারণ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
স্থায়ী কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিলটি পুনরায় সংসদে উপস্থাপন করা হবে। বিলটি পাস হলে উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রধান শিল্প ও বাণিজ্যিক জেলা বগুড়ায় একটি পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে, যা এ অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবির বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।