
দোহায় রোমাঞ্চ ছড়ানো ফাইনালে সুপার ওভারে পাকিস্তান শাহিনসের কাছে হেরে রাইজিং স্টার্স এশিয়া কাপে রানার্স–আপ হয়েছে বাংলাদেশ ‘এ’ দল। সেমিফাইনালের মতো ফাইনালেও ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে, তবে এবার শেষ হাসি হাসতে পারেননি আকবর আলীরা।
সুপার ওভারে আগে ব্যাট করে মাত্র ৬ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। জবাবে ২ বল হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে চ্যাম্পিয়ন হয় পাকিস্তান। এর আগে ২০ ওভারের লড়াইয়ে দুই দলই থামে ১২৫ রানে।
সুপার ওভারে বাংলাদেশের প্রথম বলে সিঙ্গেল নেন হাবিবুর রহমান সোহান। দ্বিতীয় বলেই আব্দুল গাফফার সাকলাইন ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। পরের ওয়াইড বল সীমানা পার হয়ে যোগ হয় ৫ রান। কিন্তু জিশান আলম বোল্ড হলে চাপ বাড়ে আরও। বাকি ৩ বলে আর রান তুলতে না পারায় থামে ৬ রানে।
জয়ের জন্য সহজ লক্ষ্য তাড়ায় রিপন মন্ডলের প্রথম দুই বলে সিঙ্গেল নেন সাদ মাসুদ ও মাজ সাদাকাত। তৃতীয় বলে মাসুদের চার ম্যাচ একচেটিয়া করে ফেলে। পরের বলেই প্রয়োজনীয় ১ রান তুলে তৃতীয়বারের মতো শিরোপা জেতে পাকিস্তান।
ফাইনাল সুপার ওভারে গড়ায় বাংলাদেশের দশম উইকেট জুটির লড়াকু ব্যাটিংয়ে। ৯৬ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে যখন হার নিশ্চিত মনে হচ্ছিল, তখন সাকলাইন–রিপনের ব্যাটে ফিরে আসে সমতা। রকিবুল হাসানের ২১ বলে ২৪ রানের ইনিংস, এরপর শেষ দুই ওভারে তিন ছক্কায় ম্যাচ ঘুরিয়ে দেন সাকলাইন। তবে শেষ ওভারের ৭ রানের সমীকরণ মেলাতে না পারায় ম্যাচ টাই হয়।
সাকলাইন ১২ বলে ১৬* (২ ছক্কা) ও রিপন ৯ বলে ১১* (১ ছক্কা) করে অপরাজিত থাকেন। বোলিংয়েও তারা ছিলেন উজ্জ্বল—রিপন ৩/২৫, সাকলাইন ১/২৭। রকিবুল নেন ২ উইকেট মাত্র ১৬ রানে।
তবে ব্যর্থ হন বাংলাদেশ ‘এ’-এর মূল ব্যাটাররা। স্পিন-বান্ধব উইকেটে পাকিস্তানের স্পিনারদের সামনে তারা ছিলেন দুর্বল। কেবল সোহান (২৬) ও মেহেরব (১৯) দুটি অঙ্কে যেতে পারেন।
পাকিস্তানের স্পিন আক্রমণই পার্থক্য গড়ে দেয়—সুফিয়ান মুকিম ১১ রানে ৩ উইকেট, আরাফাত মিনহাস ২টি, মাজ সাদাকাত ও সাদ মাসুদ নেন ১টি করে। পেসার আহমেদ দানিয়াল নেন বাকি ২ উইকেট।
বাংলাদেশ ‘এ’ ফাইনালে লড়ে শেষ পর্যন্ত, কিন্তু শিরোপা হাতছাড়া হয় সুপার ওভারের ব্যর্থতায়।



