
কুখ্যাত মাদক সম্রাট নেমেসিও রুবেন ওসেগুয়েরা সারভান্তেস (ওরফে ‘এল মেনচো’) নিহত হওয়ার পর দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতায় আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মাত্র কয়েক মাস বাকি থাকতে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন-মেক্সিকো আদৌ সহ-আয়োজক হিসেবে প্রস্তুত কি না।
ফিফার আস্থা
তবে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো আশাবাদী। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, মেক্সিকো, দেশটির প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবম এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপর তাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তাঁর মতে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।
সহিংসতার প্রেক্ষাপট
মেক্সিকান সেনাবাহিনীর অভিযানে ‘এল মেনচো’ নিহত হওয়ার পর কার্টেল সদস্যরা বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে সড়ক অবরোধ, অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতা চালায়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এতে অন্তত ৭০ জন নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় লিগের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ স্থগিত করা হয়, যার একটি ছিল কেরেতারো শহরে।
বিশ্বকাপ সূচি ও ভেন্যু
মেক্সিকোতে মোট ১৩টি বিশ্বকাপ ম্যাচ আয়োজনের কথা রয়েছে। উদ্বোধনী ম্যাচ হবে ১১ জুন মেক্সিকো সিটি-তে।
জলিস্কো কার্টেলের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত গুয়াদালাহারা শহরে চারটি ম্যাচ নির্ধারিত আছে। এছাড়া মন্টেরে-তেও একটি প্লে-অফ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
অংশগ্রহণকারী দলগুলোর প্রতিক্রিয়া
কলম্বিয়ান ফুটবল ফেডারেশন-এর সভাপতি রামন জেসুরুন আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, মেক্সিকো দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেবে।
তবে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন মার্চের প্রীতি ম্যাচের আগে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের কথা জানিয়েছে।
অন্যদিকে জামাইকান ফুটবল ফেডারেশন-এর সভাপতি মাইকেল রিকেটস উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, তারা কনকাকাফ ও ফিফার নির্দেশনার অপেক্ষায় আছেন।
সরকারের অবস্থান
প্রেসিডেন্ট শেইনবম দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন, গুয়াদালাহারায় বিশ্বকাপ ম্যাচ নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে এবং এতে কোনো ঝুঁকি নেই।
সব মিলিয়ে, সহিংসতার ছায়া থাকলেও ফিফা ও মেক্সিকো সরকার এখনো আত্মবিশ্বাসী-বিশ্বকাপ আয়োজন হবে পরিকল্পনামাফিক এবং এটি হবে একটি বৈশ্বিক উৎসব।



