
চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে লা লিগার শিরোপা নিশ্চিত করেছে বার্সেলোনা। ঘরের মাঠ কাম্প নউয়ে দাপুটে ফুটবল খেলে ২-০ গোলের জয় তুলে নিয়ে টানা দ্বিতীয়বার লিগ শিরোপা জিতেছে হান্সি ফ্লিক-এর দল।
মৌসুমের দ্বিতীয় এল ক্লাসিকোয় শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে বার্সেলোনা। ম্যাচজুড়ে রিয়ালকে চাপে রেখে প্রথমার্ধেই দুই গোল করে জয় নিশ্চিতের ভিত গড়ে নেয় স্বাগতিকরা।
এই জয়ে লিগ ইতিহাসে নিজেদের ২৯তম শিরোপা ঘরে তুলল বার্সেলোনা। লা লিগায় এটি তাদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শিরোপা জয়। তবে এবারই প্রথম ঘরের মাঠে রিয়ালকে হারিয়ে শিরোপা উদযাপনের সুযোগ পেল কাতালান ক্লাবটি।
৩৫ ম্যাচ শেষে ৩০ জয় ও এক ড্রয়ে বার্সেলোনার পয়েন্ট এখন ৯১। অন্যদিকে রিয়াল মাদ্রিদের সংগ্রহ ৭৭ পয়েন্ট। হাতে তিন ম্যাচ রেখেই শিরোপা নিশ্চিত করেছে ফ্লিকের দল।
ম্যাচের দিন ব্যক্তিগত শোকের মধ্যেও দলের পাশে ছিলেন ফ্লিক। ম্যাচের কয়েক ঘণ্টা আগে তার বাবার মৃত্যু হলেও দায়িত্ববোধ থেকে ডাগআউটে দাঁড়িয়ে দলকে নেতৃত্ব দেন তিনি। শোকের দিনেই শিরোপা জয় তার জন্য হয়ে ওঠে আবেগঘন মুহূর্ত।
২০২৪ সালে অগোছালো বার্সেলোনার দায়িত্ব নিয়েছিলেন এই জার্মান কোচ। প্রথম মৌসুমেই দলকে শিরোপা এনে দেওয়ার পর এবার টানা দ্বিতীয় মৌসুমেও সেই সাফল্য ধরে রাখলেন তিনি।
ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের সামনে পাওয়া সুযোগে দুর্দান্ত বাঁকানো শটে গোল করেন মার্কাস র্যাশফোর্ড। লিগের শেষ ছয় ম্যাচে এটি ছিল তার চতুর্থ গোল। চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে তার গোলসংখ্যা এখন ১৪।
প্রথম গোলের ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই দ্বিতীয়বার বল জালে জড়ায় রিয়াল। বাঁ দিক থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণে দানি ওলমোর নিখুঁত কাটব্যাক থেকে বল পেয়ে জোরালো শটে গোল করেন ফেররান তরেস।
টানা দ্বিতীয় ম্যাচে গোল পাওয়া তরেস লিগে নিজের গোলসংখ্যা নিয়ে গেছেন ১৬তে। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে মৌসুমে তার গোল এখন ২১টি।
দুই গোল হজমের পর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। তবে সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি তাদের খেলোয়াড়রা। গন্সালো গার্সিয়ার কাছ থেকে নেওয়া শট লক্ষ্যে থাকেনি। পরে ভিনিসিউস জুনিয়রর পাস থেকে অঔরেলিয়ে চুয়ামেনির দূরপাল্লার প্রচেষ্টাও পোস্টের বাইরে চলে যায়।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে ব্যবধান আরও বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিলেন র্যাশফোর্ড। কিন্তু তার দুর্দান্ত শট এক হাতে ঠেকিয়ে দেন থিবো কোর্তোয়া।
বিরতির পরও ম্যাচের চিত্র বদলায়নি। রিয়াল বলের দখল বাড়ানোর চেষ্টা করলেও বার্সেলোনার সংগঠিত রক্ষণভাগ ভাঙতে পারেনি। ৬৩তম মিনিটে জুড বেলিংহ্যাম বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে গোল বাতিল হয়।
শেষ পর্যন্ত আর কোনো নাটক হয়নি। সময় যত গড়িয়েছে, রিয়ালের আক্রমণ ততই ধারহীন হয়েছে। অন্যদিকে নিয়ন্ত্রিত ফুটবল খেলে সহজ জয় নিশ্চিত করে বার্সেলোনা।
শিরোপা নিশ্চিত হলেও বার্সেলোনার লক্ষ্য এখনো শেষ হয়নি। মৌসুম শেষ করার আগে পয়েন্টের সেঞ্চুরি ছুঁতে চায় তারা। সেই লক্ষ্য পূরণে বাকি তিন ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ আলাভেস, রিয়াল বেতিস ও ভালেন্সিয়া।



