
নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে বগুড়ায় কোরবানির পশু কেনাবেচার জন্য এবার ৯০টি স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। এর মধ্যে ২৯টি স্থায়ী এবং ৬১টি অস্থায়ী হাট থাকবে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হাটগুলোতে পশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ৫৯টি ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিম কাজ করবে। এসব টিম অসুস্থ পশু শনাক্তকরণ ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বগুড়ার ১২ উপজেলায় এবার কোরবানিযোগ্য পশুর চাহিদা ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৪৭ হাজার ৫৮০টি। বিপরীতে প্রস্তুত রয়েছে ৭ লাখ ৪০ হাজার ৫৩৭টি পশু। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় প্রায় ২ লাখ ৯২ হাজার ৯৫৭টি পশু বেশি রয়েছে।
প্রস্তুত পশুর মধ্যে রয়েছে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৯০৪টি ষাঁড়, ৪১ হাজার ৩২৮টি বলদ, ৬৩ হাজার ৫৫২টি গাভী, ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৫৬৯টি ছাগল, ৫৪ হাজার ২৯টি ভেড়া এবং ২ হাজার ১৫৫টি মহিষ।
এ বছর জেলায় পশু পালনকারী খামারির সংখ্যাও বেড়েছে। এবার ৫১ হাজার ৭৬৪ জন খামারি কোরবানিযোগ্য পশু প্রস্তুত করেছেন, যা গত বছরের তুলনায় ৬১৮ জন বেশি।
জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য বলছে, গত বছর জেলায় ৭ লাখ ৪৬ হাজার ৮৪২টি পশু প্রস্তুত থাকলেও চাহিদা ছিল ৭ লাখ ৯ হাজার ১০টি। সে সময় অতিরিক্ত পশু ছিল ৩৮ হাজার ৪৩২টি। তবে এবার অতিরিক্ত পশুর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় বাজারে দাম কিছুটা কমতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কাহালু মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. সুজাউল ইসলাম শামীম জানান, “বর্তমানে পশুর দাম কিছুটা বেশি থাকলেও ঈদের আগে সরবরাহ বাড়লে দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে গরুর খাদ্য, শ্রমিক ও বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে যাওয়ায় খামারিরা কম দামে পশু বিক্রি করতে চান না।”
আদমদীঘির তালসন এলাকার খামারি মো. এনামুল হক শাহ বলেন, “এবার ছোট গরুর চাহিদা বেশি দেখা যাচ্ছে। এতে খামারিরা লাভবান হতে পারেন।”
বগুড়া জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কাজী আশরাফুল ইসলাম বলেন, “চলতি মাসের ২৫ তারিখের মধ্যে হাটে সব ধরনের পশুর সরবরাহ বাড়বে। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী পশু কেনাবেচা হবে। জেলার ৯০টি হাটে মেডিকেল টিম পশুর স্বাস্থ্য নিশ্চিতে কাজ করবে।”
এদিকে পশুর হাটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মাঠে থাকবে পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা।
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) হোসাইন মুহাম্মদ রায়হান জানান, প্রতিটি হাটে একজন এসআইয়ের নেতৃত্বে ৪ থেকে ৫ সদস্যের পুলিশ টিম দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি জাল টাকা শনাক্তে ব্যাংক কর্মকর্তারাও কাজ করবেন।



