
দুর্ভেদ্য দুর্গ যতই শক্ত হোক, একসময় না একসময় তার দেয়ালে ফাটল ধরেই। হিউস্টনের রাতেও জাপান ঠিক তেমনই এক অটল প্রাচীর তুলে দিয়েছিল ব্রাজিলের সামনে। সেই দেয়াল ভাঙতে সেলেসাওদের ঘাম ঝরেছে, লড়তে হয়েছে নিজেদের সেরাটা দিয়ে।
পিছিয়ে পড়েও হাল ছাড়েনি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। দৃঢ়চেতা মনোভাব, চোয়ালবদ্ধ প্রতিজ্ঞা, হারার আগে না হারার মানসিকতা আর কৌশলী ফুটবলের পতাকা উড়িয়ে অবশেষে জাপানের প্রতিরোধ ভেঙে ২-১ গোলের জয় তুলে নিয়ে শুধু শেষ ষোলো নয়, বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের উত্তেজনাকেও আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল ব্রাজিল।
হিউস্টনের শেষ মুহূর্তের অতিমানবীয়, অবিশ্বাস্য এক গোলে যেন রিও ডি জেনেইরো থেকে ঢাকার টিএসসি-সবকিছু মিশে গেল হলুদের উল্লাসে। হাজারো অলিগলি জেগে উঠল সাম্বার ছন্দে, রাতের শহর ফিরে পেল প্রাণ। সেই আনন্দের রংধনু ছড়িয়ে পড়ল সেলেসাও সমর্থকদের হৃদয়ে।
তবে এই জয় কেবল ব্রাজিলের উল্লাসের গল্প নয়, এটি জাপানের লড়াকু মানসিকতারও প্রতিচ্ছবি। শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত শৃঙ্খলাবদ্ধ ও আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলে তারা ব্রাজিলকে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলেছিল।
শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতা, ধৈর্য এবং শেষ মুহূর্তের দুর্দান্ত আক্রমণেই ম্যাচ নিজেদের করে নেয় ব্রাজিল। ২-১ গোলের এই জয় সেলেসাওদের নিশ্চিত করেছে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা, আর একই সঙ্গে ফুটবলপ্রেমীদের উপহার দিয়েছে আরেকটি স্মরণীয় বিশ্বকাপের রাত।