
বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাস লিখেছে কানাডা। প্রথমবারের মতো নকআউট ম্যাচে জয় পেয়েছে তারা। অধিনায়ক স্টিফেন ইউস্টাকিওর যোগ করা সময়ের দুর্দান্ত গোলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছে স্বাগতিকরা।
দুই দলের জন্যই ম্যাচটি ছিল বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম নকআউট লড়াই। লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার শক্ত রক্ষণ ভাঙতে দীর্ঘ সময় সংগ্রাম করতে হয় কানাডাকে। ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর অপেক্ষায় থাকলেও শেষ মুহূর্তে বদলে যায় সব।
যোগ করা সময়ে বক্সের বাইরে থেকে দারুণ এক শটে গোল করে কানাডার অধিনায়ক ইউস্টাকিও ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করেন। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আগামী শনিবার কানাডার প্রতিপক্ষ হবে নেদারল্যান্ডস অথবা মরক্কো।
পুরো ম্যাচে আক্রমণে এগিয়ে ছিল কানাডা। ইউস্টাকিওর ফ্রি-কিক ও সেট-পিস থেকে একাধিক সুযোগ তৈরি হলেও দক্ষিণ আফ্রিকার গোলরক্ষক রনওয়েন উইলিয়ামস দুর্দান্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
দ্বিতীয়ার্ধেও কানাডা চাপ বাড়ায়। তবে গোলের দেখা পাচ্ছিল না তারা। ৭৫ মিনিটে ইনজুরি কাটিয়ে মাঠে ফেরেন কানাডার তারকা আলফোনসো ডেভিস। এরপরও দক্ষিণ আফ্রিকার রক্ষণ ভাঙতে পারেনি স্বাগতিকরা।
শেষ পর্যন্ত ইউস্টাকিওর একমাত্র গোলেই আসে ঐতিহাসিক জয়।
এই ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার গোলরক্ষক রনওয়েন উইলিয়ামস একটি রেকর্ডও গড়েছেন। ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপ ম্যাচে কোনো গোলরক্ষকের সবচেয়ে বেশি সফল পাসের রেকর্ড করেছেন তিনি। ম্যাচে তার সফল পাস সংখ্যা ৭৭টি, যা ২০২২ বিশ্বকাপে জার্মানির ম্যানুয়েল নয়্যারের ৫১ পাসের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
তবে ইউস্টাকিওর দুর্দান্ত শটের সামনে শেষ পর্যন্ত হার মানতে হয় দক্ষিণ আফ্রিকাকে।
ম্যাচ পরিসংখ্যানে কানাডা এগিয়ে ছিল। তাদের শট ছিল ১২টি, দক্ষিণ আফ্রিকার ৬টি। লক্ষ্যে কানাডার শট ৭টি, দক্ষিণ আফ্রিকার মাত্র ১টি। প্রত্যাশিত গোলের হিসাবেও এগিয়ে ছিল কানাডা।
ইউস্টাকিওর একমাত্র গোলেই কানাডা পেল বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সাফল্য।