
ম্যানচেস্টার সিটির মাঝমাঠে নতুন যুগের শুরু হতে যাচ্ছে ১৮ বছর বয়সী মরোক্কান মিডফিল্ডার আইয়ুব বুয়াদ্দিকে দিয়ে। ফরাসি ক্লাব লিল থেকে তাকে দলে টানতে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ইউরোর চুক্তিতে পৌঁছেছে ইংলিশ ক্লাবটি। রদ্রির জায়গা পূরণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই বুয়াদ্দিকে বেছে নিয়েছে সিটি।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুয়াদ্দিকে পেতে ম্যানচেস্টার সিটি প্রাথমিকভাবে ৯৫ মিলিয়ন ইউরো দেবে। পারফরম্যান্সভিত্তিক বিভিন্ন শর্ত পূরণ হলে যোগ হতে পারে আরও ৫ মিলিয়ন ইউরো। সব মিলিয়ে দলবদলের অঙ্ক দাঁড়াতে পারে ১০০ মিলিয়ন ইউরোতে, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা।
বুয়াদ্দির সঙ্গে ২০৩১ সালের গ্রীষ্ম পর্যন্ত চুক্তি করতে যাচ্ছে সিটি। চুক্তিতে মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানোর সুযোগও রাখা হয়েছে। এত বড় অঙ্কে তাকে দলে নেওয়া থেকেই বোঝা যায়, তরুণ এই মিডফিল্ডারকে ঘিরে সিটির পরিকল্পনা কতটা দীর্ঘমেয়াদি।
লিলের একাডেমিতেই বেড়ে উঠেছেন বুয়াদ্দি। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে কনফারেন্স লিগে মাত্র ১৬ বছর ৩ দিন বয়সে অভিষেক হয়ে ক্লাবটির ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড়ের রেকর্ড গড়েন তিনি। এরপর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে ওঠেন।
তবে বুয়াদ্দির সবচেয়ে বড় পরিচয় তৈরি হয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে। ২০২৬ বিশ্বকাপে মরক্কোর হয়ে ছয় ম্যাচের পাঁচটিতে শুরু থেকে মাঠে ছিলেন তিনি। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পথে মাঝমাঠে তার পারফরম্যান্স নজর কেড়েছে ফুটবল বিশ্বের। ব্রাজিলের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করা ম্যাচেও তার পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো।
জাতীয় দলের ক্ষেত্রেও বুয়াদ্দির পথচলা ছিল কিছুটা আলাদা। ফ্রান্সের বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলে খেলেছেন তিনি। কিন্তু গত মে মাসে সিনিয়র আন্তর্জাতিক ফুটবলে মরক্কোকে বেছে নেন। এরপর দ্রুতই আফ্রিকার দলটির মাঝমাঠের গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে উঠেছেন।
বুয়াদ্দিকে পেতে লিলের জন্যও এটি বড় এক প্রাপ্তি। প্রায় ১০০ মিলিয়ন ইউরোর সম্ভাব্য চুক্তিতে তিনি হতে যাচ্ছেন ক্লাবটির ইতিহাসে সবচেয়ে দামি বিক্রিত খেলোয়াড়। এর আগে ২০১৯ সালে ৮০ মিলিয়ন ইউরোতে নিকোলাস পেপেকে আর্সেনালে বিক্রি করেছিল লিল।
তথ্যসূত্র: চ্যানেল ২৪



