ফুটবল
প্রধান খবর

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ইউনাইটেডের নাটকীয় জয়, বায়ার্ন-বার্সার দাপট; পিএসজির গোলবন্যা

উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের রোমাঞ্চকর এক রাতে ইউরোপের মঞ্চে দেখা গেল একাধিক চমক। দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও রোমার বিপক্ষে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে জয় তুলে নিয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। অ্যাটলেতিকো মাদ্রিদের মাঠ থেকে জয় নিয়ে ফিরেছে বায়ার্ন মিউনিখ। অন্যদিকে, নিজেদের আধিপত্য ধরে রেখে বড় ব্যবধানে জিতেছে বার্সেলোনা ও বর্তমান চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)।

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের নাটকীয় জয়

ঘরের মাঠ ওল্ড ট্রাফোর্ডে প্রথমার্ধে নিজেদের খুঁজেই পায়নি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। প্রথমার্ধে দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে পেনাল্টি থেকে ব্যবধান কমিয়ে ঘুরে দাঁড়ায় দলটি। শেষ পর্যন্ত রোমাকে ৩-২ গোলে হারিয়ে দারুণ জয় তুলে নেয় মাইকেল ক্যারিকের দল।

ম্যাচের ১১ মিনিটে মাতিয়াস সুলের গোলে এগিয়ে যায় রোমা। এর ছয় মিনিট পর স্পট কিক থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন দানিয়েল মালেন। এরপর আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও গোলের দেখা পায়নি সফরকারীরা।

বিরতির ১২ মিনিট পর পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান কমান ইউনাইটেড অধিনায়ক ব্রুনো ফার্নান্দেজ। এরপর ৮৩ ও ৮৬ মিনিটে ব্রাজিলিয়ান তারকা মাতেউস কুনহার জোড়া গোলে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা।

গোল উদযাপনের সময় জার্সি খুলে ফেলায় হলুদ কার্ড দেখেন কুনহা। যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে অহেতুক ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় ইউনাইটেড। তবে বাকি সময় আর গোল হজম করতে হয়নি তাদের।

সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ১০ ম্যাচের পর এটি ইউনাইটেডের প্রথম জয়। ইউরোপ সেরার মঞ্চে চলতি আসরে এটি তাদের দ্বিতীয় জয়। চার ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার ১৭ নম্বরে উঠে এসেছে রেড ডেভিলরা। অন্যদিকে, ৪ পয়েন্ট নিয়ে ১৯ নম্বরে রয়েছে রোমা।

অ্যাটলেতিকোর মাঠে বায়ার্নের জয়

হ্যারি কেইন নিজের ছায়া হয়ে থাকলেও দুই তরুণ মিডফিল্ডারের নৈপুণ্যে অ্যাটলেতিকো মাদ্রিদের মাঠ থেকে ২-০ গোলের জয় নিয়ে ফিরেছে বায়ার্ন মিউনিখ।

ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে ৫৪ মিনিটে লেনার্ট কার্ল এবং ৭৪ মিনিটে কনরাড লাইমার গোল দুটি করেন। এই জয়ে চার ম্যাচে দুই জয় ও দুই ড্রয়ে ৮ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার আট নম্বরে উঠে এসেছে জার্মান চ্যাম্পিয়নরা।

অন্যদিকে, আসরে দ্বিতীয় হারের পর ৪ পয়েন্ট নিয়ে ২২ নম্বরে নেমে গেছে অ্যাটলেতিকো মাদ্রিদ।

ইয়ামাল-রাফিনিয়ার নৈপুণ্যে অ্যাস্টন ভিলাকে হারাল বার্সেলোনা

আগের রাউন্ডে পিএসজির মাঠে ৪-২ গোলে হেরেছিল বার্সেলোনা। এবার ঘরের মাঠ ক্যাম্প ন্যুয়ে ইংলিশ ক্লাব অ্যাস্টন ভিলাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে জয়ে ফিরেছে কাতালানরা।

এই জয়ে পয়েন্ট তালিকার নবম স্থান থেকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে বার্সেলোনা। চার ম্যাচে তিন জয় ও এক হারে তাদের পয়েন্ট ৯। সমান পয়েন্ট নিয়ে বার্সেলোনার পরই রয়েছে অ্যাস্টন ভিলা। টানা তিন জয়ের পর আসরে প্রথম হারের স্বাদ পেয়েছে উনাই এমেরির দল।

ম্যাচে বল দখলের পাশাপাশি আক্রমণেও এগিয়ে ছিল বার্সেলোনা। গোলের উদ্দেশ্যে নেওয়া ১৫টি শটের ছয়টি লক্ষ্যে রাখতে পারে তারা। অন্যদিকে, ভিলার সাত শটের চারটি ছিল লক্ষ্যে।

ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটে গোল করে কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ছাড়িয়ে ২০ বছর বয়সের নিচে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড নিজের করে নেন লামিন ইয়ামাল। এই প্রতিযোগিতায় তাঁর গোলসংখ্যা এখন ১৪। দ্বিতীয়ার্ধে ৫২ ও ৬৪ মিনিটে জোড়া গোল করে দলের সহজ জয় নিশ্চিত করেন অধিনায়ক রাফিনিয়া।

ভিয়ারিয়ালকে ৬-০ গোলে হারিয়ে পিএসজির ইতিহাস

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজেদের আধিপত্য ধরে রেখেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজি। প্রতিপক্ষের মাঠে ভিয়ারিয়ালকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে লুইস এনরিকের দল। চার ম্যাচে পূর্ণ ১২ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষস্থান আরও মজবুত করেছে প্যারিসের ক্লাবটি।

ম্যাচে মাত্র ১৬ মিনিট ২ সেকেন্ডের মধ্যে চার গোল করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে দ্রুততম সময়ে চার গোল করার রেকর্ড গড়েছে পিএসজি।

ম্যাচের প্রথম পাঁচ মিনিট স্বাগতিক ভিয়ারিয়াল কিছুটা লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিলেও নবম থেকে ১৭তম মিনিটের মধ্যে চার গোল হজম করে তারা। দ্বিতীয়ার্ধেও গোলের ধারা অব্যাহত রাখে ফরাসি দলটি। ফাবিয়ান রুইসের জোড়া গোলের পাশাপাশি জালের দেখা পান জুয়াও নেভেস, দেজিরে দুয়ে, সেনি মায়ুলু ও ডেভিড বুলি।

এই জয়ে চলতি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্রথম চার রাউন্ডের প্রতিটিতেই অন্তত চারটি করে গোল করার রেকর্ড ধরে রেখেছে পিএসজি। আসরের শুরুতে স্লোভান ব্রাতিস্লাভাকে ৬-১ গোলে হারানোর পর ম্যানচেস্টার সিটি ও বার্সেলোনার বিপক্ষে ৪-২ ব্যবধানে জিতেছিল তারা। চার ম্যাচে পিএসজির মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০।

এ ছাড়া ইউরোপীয় মঞ্চে টানা ১৪ ম্যাচ অপরাজিত থেকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ বা ইউরোপিয়ান কাপের ইতিহাসে কোনো ফরাসি ক্লাবের টানা সর্বাধিক ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড ছুঁয়েছে পিএসজি। এর আগে ২০০৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০০৬ সালের মার্চ পর্যন্ত টানা ১৪ ম্যাচ অপরাজিত থেকে এই রেকর্ড গড়েছিল ফরাসি ক্লাব লিওঁ।

তথ্যসূত্র: চ্যানেল ২৪

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button