তথ্য ও প্রযুক্তি

ভাইরাল ভিডিও ফেক কিনা বুঝবেন যেভাবে

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বহু ভিডিও এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি হচ্ছে। সব ভিডিও যে নিছক ভুয়া—তা নয়; তবে বিভ্রান্তি ছড়ানোর ক্ষেত্রে এসব ভিডিও অত্যন্ত কার্যকর। কয়েক দিন আগে ভাইরাল হওয়া ‘সিংহ রাস্তায় হাঁটছে’—এমন ভিডিওটিও শেষ পর্যন্ত এআই–নির্মিত বলে নিশ্চিত হওয়া যায়। সিসিটিভি ফুটেজ হিসেবে ছড়ানো সেই ভিডিওতে দেখা যায়, একটি সিংহ রাস্তায় হাঁটছে এবং ফুটপাতে ঘুমিয়ে থাকা এক ব্যক্তিকে কয়েক সেকেন্ড শুঁকে চলে যাচ্ছে। কয়েক লাখ ভিউ পাওয়া সেই ভিডিওর উৎস যাচাই না করেই অনেকে তা বিশ্বাস করেছেন।

পরবর্তী অনুসন্ধানে ভিডিওটির উৎস এআই প্ল্যাটফর্ম বলে নিশ্চিত হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে—কীভাবে বোঝা যাবে কোন ভিডিও আসল, আর কোনটি এআই–নির্মিত।

গবেষকরা জানাচ্ছেন, প্রথম চেকপয়েন্ট হলো ভিডিওর পিকচার কোয়ালিটি। বেশির ভাগ এআই ভিডিওই ব্লারি ও দানা দানাযুক্ত—পুরোনো টিভি সেটের মতো। এসব ভিডিও সাধারণত দূর থেকে ধারণ করা হয়েছে বলে দেখানো হয় এবং সিসিটিভি ফুটেজ হিসেবে ছড়ানো হয়। কারণ, সিংহ বা বাঘ রাস্তায় ঘুরছে—এমন দৃশ্য সরাসরি ক্যামেরায় ধারণ করা হলে বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে; কিন্তু ‘সিসিটিভির ফুটেজ’ বললে সেই সন্দেহ কমে যায়। বিশ্বজুড়ে ভাইরাল হওয়া এআই ভিডিওর প্রায় ৯০ শতাংশই সিসিটিভি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

তবে গুগলের ভিউ বা ওপেনএআই–এর সোরা–এর মতো উন্নতমানের প্ল্যাটফর্মে তৈরি ভিডিও শনাক্ত করা কঠিন বলে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করছেন। তবুও বাজারে ছড়ানো এআই ভিডিওর বড় অংশ এখনো নিম্নমানের—যা শনাক্তের প্রথম সূত্র।

দ্বিতীয় চেকপয়েন্ট হলো ভিডিওর যুক্তিযুক্ততা। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ভিডিওতে দেখানো ঘটনার বাস্তবসম্মত হওয়া নিয়ে নিজের বিচার–বুদ্ধি ব্যবহার করাই সবচেয়ে কার্যকর কৌশল। কিছুদিন আগে ভাইরাল হওয়া বাঘের ভিডিওও ছিল এআই–নির্ভর ফুটেজ, যা অনেকেই না বুঝে শেয়ার করেছেন।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এআই ভিডিও শনাক্তের আরও কিছু কৌশল নিয়ে পরে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button