বগুড়া জেলা
প্রধান খবর

বগুড়ায় মরিচ রক্ষণাবেক্ষণে ২৫ হাজার নারীর কর্মসংস্থান

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ভ্যাপসা গরম আর তপ্ত রোদ উপেক্ষা করে জমি থেকে মরিচ তোলা, চাতালে লাল টোবা মরিচ শুকানো এবং বাছাইয়ের মতো কঠিন কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন নারী শ্রমিকরা। দিনের পর দিন রোদে বসে এই শ্রমসাধ্য কাজ করতে হলেও মুখে হাসি নিয়েই দায়িত্ব পালন করছেন তারা।

জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলা-সহ বিভিন্ন এলাকায় মরিচ চাষকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে বড় ধরনের কর্মসংস্থান। শুধু মরিচ তোলা, শুকানো ও বাছাইয়ের কাজেই নিয়োজিত রয়েছেন অন্তত ২৫ হাজার নারী শ্রমিক।

চাতালে কাজ করা আঙুরি বেগম বলেন, অভাব-অনটনের সংসারে সন্তানদের পড়ালেখা ও পরিবারের খরচ চালাতে বাধ্য হয়েই রোদে পুড়ে কাজ করতে হয়। তার ভাষায়, পেটের তাগিদে এই কষ্ট তেমন কিছু মনে হয় না।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বগুড়া জেলায় ৪১ হাজার ৬২৫ বিঘা জমিতে মরিচ চাষ হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাষ হয়েছে সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলার চরাঞ্চলে। শুধু সারিয়াকান্দিতেই চাষ হয়েছে ২০ হাজার ২৫ বিঘা জমিতে।

বাজারে কাঁচা মরিচের দাম তুলনামূলক কম থাকলেও শুকনা মরিচের দাম ভালো। জাত ও মানভেদে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, আর খুচরা পর্যায়ে তা ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

চাষিদের ভাষ্য, দেশি মরিচ তুলতে চার দফায় শ্রমিকের প্রয়োজন হয়, আর হাইব্রিড মরিচ তুলতে লাগে অন্তত ১০ দফা শ্রম। এছাড়া মরিচ শুকানো ও বাজারজাত করার কাজে নারী শ্রমিকদের দক্ষতার কারণে তাদের চাহিদা সবচেয়ে বেশি।

সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, মরিচ তোলা, শুকানো ও বাজারজাতকরণে এই মৌসুমে অন্তত ২৫ হাজার শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। নারী শ্রমিকরা দৈনিক গড়ে ৩০০ টাকা মজুরি পান।

চাতালে কাজ করা মোরশেদা খাতুন জানান, তিন সদস্যের সংসারে তিনিই প্রধান উপার্জনকারী। প্রতিদিন মরিচের কাজে শ্রম দিয়েই তার সংসার চলে। একইভাবে মালোপাড়া, নারচী ও ফুলবাড়ী এলাকার কমেলা রানী, মেরী খাতুন ও আদুরীর মতো হাজারো নারী এই খাতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, চলতি মৌসুমে মরিচের ফলন ভালো হয়েছে। গাছ থেকে মরিচ সংগ্রহ, শুকানো ও বাজারজাতকরণে নারী শ্রমিকদের দক্ষতা অতুলনীয়। ফলে প্রতিদিনই তাদের চাহিদা বাড়ছে।

মরিচ চাষকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই কর্মসংস্থান গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে নারীদের আয় বাড়ায় তাদের পরিবারে স্বচ্ছলতা ফিরছে এবং অর্থনৈতিকভাবে আরও স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন তারা।

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button