ভিসিকে-র নিঃশর্ত সমর্থনে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন থালাপতি

ভারতের তামিলনাড়ুর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জোট সরকার বা কোয়ালিশন সরকার গঠিত হতে যাচ্ছে। আর সেই সরকারের নেতৃত্বে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন অভিনেতা-রাজনীতিক বিজয়।
তার দল তামিঝাগা ভেট্রি কঝগম (টিভিকে)-এর প্রধান কার্যালয়ে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। নির্বাচনে চমকপ্রদ ফল করেও সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তায় ছিলেন বিজয়। তবে শেষ পর্যন্ত সেই সংকট কাটিয়ে সরকার গঠনের পথ সুগম হয়েছে।
বিদুথালাই চিরুতাইগাল কাচি (ভিসিকে) আনুষ্ঠানিকভাবে টিভিকেকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। দলটির দেওয়া সমর্থনপত্রের মাধ্যমে বিজয় নেতৃত্বাধীন জোটের মোট সদস্য সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১৮-এ, যা রাজ্য বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা।
ভিসিকের সমর্থনপত্রে বলা হয়েছে, তামিলনাড়ুর জনগণকে একটি স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক সরকার উপহার দিতেই তারা বিজয়কে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এর আগে বিজয়ের জোটের সঙ্গে ছিল ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস-এর পাঁচজন এবং বামপন্থী দলগুলোর চারজন বিধায়কের সমর্থন। ভিসিকের দুটি আসন যোগ হওয়ায় সংখ্যাটি এখন সরকার গঠনের জন্য যথেষ্ট হয়েছে।
সূত্র বলছে, বামপন্থী দলগুলো নিঃশর্ত সমর্থন দিলেও কংগ্রেস জোটে অন্তত দুটি মন্ত্রিত্ব দাবি করেছে। একই সঙ্গে বিরোধী দল অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাঝগম-এর কয়েকজন বিধায়কও টিভিকের দিকে ঝুঁকতে পারেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
গত বুধবার থেকে সরকার গঠন নিয়ে দফায় দফায় আলোচনা চললেও প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দেখাতে না পারায় রাজ্যপাল আর ভি আর্লেকর সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাননি। তিনি ১১৮ জন বিধায়কের স্বাক্ষরযুক্ত সমর্থনপত্র জমা দেওয়ার ওপর জোর দেন।
এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে টিভিকে। মাত্র দুই বছর আগে গঠিত দলটি ১০৮টি আসন পেয়ে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এর মাধ্যমে দীর্ঘ ৬২ বছর ধরে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তারকারী দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাঝগম এবং এআইএডিএমকের একচ্ছত্র প্রভাবের অবসান ঘটেছে।
নিজে দুটি আসনে জয় পেলেও নিয়ম অনুযায়ী একটি আসন ছেড়ে দেওয়ায় বর্তমানে বিজয়ের দলের বিধায়ক সংখ্যা ১০৭।
নির্বাচনে বিদায়ী ডিএমকে পেয়েছে ৫৯টি এবং এআইএডিএমকে ৪৭টি আসন। এছাড়া কংগ্রেস পাঁচটি ও পিএমকে চারটি আসনে জয় পেয়েছে।
অন্যদিকে ভিসিকে, ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগ, কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া ও কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (মার্কসবাদী) দুটি করে আসন লাভ করেছে। এছাড়া ভারতীয় জনতা পার্টি, ডিএমডিকে এবং এএমএমকে একটি করে আসন পেয়েছে।
তথ্যসূত্র: টিবিএস নিউজ



