
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বড় চমক দেখিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। ২৯৪ আসনের বিধানসভায় দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন জিতে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে দলটি।
এ নির্বাচনে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছেন রাজ্যের টানা তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি নিজের শক্ত ঘাঁটি ভবানীপুর আসনে পরাজিত হয়েছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে।
ভোট গণনার শুরুতে এগিয়ে ছিলেন মমতা। সপ্তম দফা শেষে তিনি প্রায় ১৭ হাজার ভোটে এগিয়ে ছিলেন। কিন্তু পরবর্তী দফাগুলোতে ব্যবধান দ্রুত কমতে থাকে। ১৪তম দফায় তা নেমে আসে ৪ হাজারের নিচে এবং শেষ পর্যন্ত তিনি ১৫ হাজার ১০৫ ভোটে হেরে যান।
দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর আসনটি দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে এবারের নির্বাচন মর্যাদার লড়াইয়ে রূপ নেয়। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের নির্বাচনেও নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে হেরেছিলেন মমতা।
সর্বশেষ প্রাপ্ত ফল অনুযায়ী:
- বিজেপি পেয়েছে ২০৬টি আসন
- তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৮১টি আসন
গত নির্বাচনে যেখানে বিজেপির আসন ছিল মাত্র ৭৭টি, সেখানে এবার তাদের এই উত্থান নজিরবিহীন। অন্যদিকে, তৃণমূলের আসন ২১৪ থেকে নেমে এসেছে ৮১-তে।
বিশ্লেষকদের মতে, এবার কৌশলগত পরিবর্তন এনে সাফল্য পেয়েছে বিজেপি। ২০২১ সালের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে দলটি তৃণমূল থেকে আসা নেতাদের সামনে না এনে স্থানীয় নেতৃত্বকে গুরুত্ব দেয়। উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, অবকাঠামো ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনের প্রতিশ্রুতিকে সামনে রেখে প্রচারণা চালানো হয়।
নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধনের ফলে প্রায় ৯১ লাখ ভোটার বাদ পড়ার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এর মধ্যে ২৭ লাখের বেশি ভোটারের বিষয় এখনো বিচারাধীন রয়েছে। এই সংখ্যা মোট ভোটারের ১১.৬ শতাংশেরও বেশি, যা নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পূর্ব ভারতে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার দীর্ঘদিনের লক্ষ্য পূরণ করেছে বিজেপি। এখন আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা থাকলেও, এই জয়কে দলটির জন্য ঐতিহাসিক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: আজকের পত্রিকা



