বগুড়া জেলা

বগুড়ার আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, পুলিশের অনুষ্ঠানেই মঞ্চে আসামি

অর্থ আত্মসাতের একটি মামলায় রাজধানীর রূপনগর থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহম্মেদ-এর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। বগুড়ার একটি আদালত পরোয়ানা জারি করার পর ছয় মাস ধরে তাকে খুঁজে না পাওয়ার কথা বলছে পুলিশ। অথচ ঢাকার বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে অংশ নিতে দেখা গেছে তাকে। এমনকি পুলিশের আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানেও তিনি মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

আলী আহম্মেদের গ্রামের বাড়ি বগুড়ায়। তিনি রূপনগর থানা বিএনপির নেতা হলেও তার বর্তমান ঠিকানা দেওয়া হয়েছে ঢাকার তুরাগ এলাকায়। গত ২৮ এপ্রিল রূপনগর থানা পুলিশের আয়োজিত ‘ওপেন হাউস ডে’ অনুষ্ঠানে তাকে মঞ্চে দেখা যায়। ওই অনুষ্ঠানে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

মামলার বাদীর অভিযোগ, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও তাকে গ্রেপ্তার না করার পেছনে রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ব্যবসায় বিনিয়োগের নামে ১ কোটি ৪৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গত বছরের ২৯ নভেম্বর বগুড়ার আদালতে মামলা করেন মো. মোস্তাক তা-সীন। মামলায় আলী আহম্মেদকে টুইনটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

গত ১ জানুয়ারি আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, বগুড়ার বিভিন্ন আদালতে তার বিরুদ্ধে মোট আটটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় সাজাও হয়েছে। এছাড়া গত ৪ মে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি আদালতে হাজির হননি।

পরবর্তীতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাটি ঢাকার তুরাগ থানায় পাঠানো হয়। মামলার বাদী একাধিকবার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন। পরে তিনি গত ৯ মার্চ পুলিশ সদর দপ্তরে লিখিত অভিযোগও দেন।

এ বিষয়ে আলী আহম্মেদ বলেন, তিনি আগে মামলার বিষয়টি জানতেন না। বাদীপক্ষ বিষয়টি গোপন রেখেছিল বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, সম্প্রতি থানার মাধ্যমে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয়টি জানতে পেরে তিনি উচ্চ আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করেছেন এবং নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের উদ্যোগ নিয়েছেন।

ছবি: আলী আহম্মেদের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে নেওয়া

অন্যদিকে, তুরাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। তিনি জানান, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কোনো আসামির ছাড় পাওয়ার সুযোগ নেই। কোনো সাধারণ ফৌজদারি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

তবে মামলার বাদী মোস্তাক তা-সীনের অভিযোগ, আসামির অবস্থান সম্পর্কে বারবার তথ্য দেওয়ার পরও পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেনি। তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণেই আইন প্রয়োগে গাফিলতি করা হচ্ছে।

মোস্তাক তা-সীন বলেন, “গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকার পরও আলী আহম্মেদ রাজুকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। এই সুযোগে তিনি আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছেন। দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা চূড়ান্ত অবস্থান এখনো জানা যায়নি।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button