
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিএএবি) এবং জাপানি একটি কনসোর্টিয়ামের মধ্যে চুক্তি আগামী ১৯ জুলাইয়ের মধ্যে স্বাক্ষরিত হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী ১৯ জুলাইয়ের মধ্যে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হবে। আমরা এর আগেই চুক্তি সম্পন্ন করার চেষ্টা করব। আশা করছি, চলতি বছরের ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে তৃতীয় টার্মিনালটি চালু করা সম্ভব হবে।”
প্রতিমন্ত্রী জানান, টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়া জাপানি কনসোর্টিয়াম দ্বিতীয় একটি গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিং প্রতিষ্ঠানও নিয়োগ করবে।
সিএএবি এবং জাপানি কনসোর্টিয়ামের মধ্যে ব্যবস্থাপনা ও রাজস্ব ভাগাভাগি নিয়ে মতবিরোধের কারণে প্রায় দেড় বছর ধরে তৃতীয় টার্মিনালটি চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে সাম্প্রতিক আলোচনার মাধ্যমে সেই অচলাবস্থা কাটানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জাপানি কনসোর্টিয়ামে রয়েছে জাপান এয়ারপোর্ট টার্মিনাল কোম্পানি, সুমিতোমো করপোরেশন, নিপ্পন কোয়েই এবং নারিতা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট করপোরেশন।
টার্মিনালটির পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত বিষয়গুলো চূড়ান্ত করতে সিএএবি এবং কনসোর্টিয়ামের মধ্যে বুধবার শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী বৈঠক বৃহস্পতিবার শেষ হয়েছে।
বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জাপানি পক্ষের জমা দেওয়া সংশোধিত প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে আলোচনা হয়েছে। এতে আরোহণ ফি, অগ্রিম অর্থ প্রদান এবং রাজস্ব ভাগাভাগি সংক্রান্ত বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।
এর আগে গত ৩ এপ্রিল বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে এ বিষয়ে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও তখন কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিনের নীতিগত সিদ্ধান্তহীনতার কারণে নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ার পরও তৃতীয় টার্মিনাল চালু করা সম্ভব হয়নি। ফলে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো দীর্ঘদিন অব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে।
দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানি পক্ষের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরু করার নির্দেশ দেন। এর ধারাবাহিকতায় ১৩ মার্চ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
৫ লাখ ৪২ হাজার বর্গমিটার আয়তনের তৃতীয় টার্মিনালটি বছরে অতিরিক্ত ১ কোটি ২০ লাখ থেকে ১ কোটি ৬০ লাখ যাত্রী এবং প্রায় ৫ লাখ টন পণ্য পরিবহনের সক্ষমতা নিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। চালু হলে এটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রী ও কার্গো ব্যবস্থাপনায় নতুন মাত্রা যোগ করবে।
তথ্যসূত্র: যুগান্তর