
জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ স্বাধীনতা পুরস্কার (মরণোত্তর) পাচ্ছেন রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক মাহেরীন চৌধুরী। বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ মোট ১৫ বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৫ প্রতিষ্ঠানকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সমাজসেবা/জনসেবা ক্যাটাগরিতে মাহেরীন চৌধুরীকে এই পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। একই ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পাচ্ছেন ডা. জাফরুল্লাহ্ চৌধুরী (মরণোত্তর) ও মো. সাইদুল হক।
গত ২১ জুলাই উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের স্কুল ভবনে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান আছড়ে পড়ে। এ ঘটনায় মোট ৩৬ জন নিহত হন, যাদের বেশিরভাগই ছিল শিক্ষার্থী।
বিমানটি আছড়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে এবং অনেক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়। এ সময় মাহেরীন চৌধুরী শিশুশিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে আপ্রাণ চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তিনি নিজেও অগ্নিদগ্ধ হন। পরে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তার এই আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে স্বাধীনতা পুরস্কার (মরণোত্তর) দেওয়ার জন্য মনোনীত করা হয়েছে।
মাহেরীন চৌধুরী প্রায় ১৭ বছর ধরে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষকতা করে আসছিলেন। মৃত্যুর আগে তিনি হায়দার আলী ভবনের (বিমান বিধ্বস্ত হওয়া ভবন) বাংলা মাধ্যমের দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণির কো-অর্ডিনেটরের দায়িত্বে ছিলেন।
মাহেরীন চৌধুরীর বাবার বাড়ি নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলার বগুলাগাড়ি গ্রামে। তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাতিজি। তার বাবা মহিতুর রহমান জিয়াউর রহমানের খালাতো ভাই এবং দাদি রওশানারা চৌধুরী ছিলেন জিয়াউর রহমানের খালা।
তথ্যসূত্র: বণিক বার্তা



